হাইকোর্টে ইডি বনাম দিদি! বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের (IPAC) দপ্তরে তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি (Enforcement Directorate)। শুক্রবার দুপুরে হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি এজলাসে এসেও শুনানি শুরু করতে পারেননি। ভিড়ের কারণে মামলা না-শুনেই এজলাস ছাড়েন বিচারপতি। মামলা মুলতুবি হয়ে যায়। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৪ জানুয়ারি। এতে অখুশি ইডি। এরপরই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে তারা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে আবেদন জানায়। প্রথমে মৌখিক ভাবে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির অফিসে জানানো হয়। জরুরি ভিত্তিতে বেঞ্চ বসিয়ে শুনানি চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত আবেদন করে ইডি। তবে জানা যাচ্ছে সেই আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। রাজ্য পুলিশের কাজে আপাতত হস্তক্ষেপ নয়, জানিয়ে দিল আদালত।
হাই কোর্টে সূত্রে খবর, ইডির আবেদন যদিও ওই বিচারপতি ঘোষের এজলাসে শুনানি সম্ভব না-হয় তবে অন্য বিচারপতির কাছে মামলা পাঠানো হোক। ইডিকে তাদের আবেদন লিখিত ভাবে জানানোর জন্য প্রধান বিচারপতির অফিস থেকে বলা হয়েছে। তার পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি(ED)। একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। অন্য দলটি যায় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের অফিসে ইডির হানার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে ঘটনাস্থলে যান। ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে ফাইল বার করে আনেন তিনি। পরে সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে গিয়ে বেশ কিছু ফাইল, নথি, ল্যাপটপ বার করে এনে নিজের গাড়িতে তোলেন । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন , “ফরেন্সিক টিম দিয়ে তৃণমূলের ভোট কৌশল চুরি করেছে ইডি, হার্ড ডিস্ক সরিয়েছে, নথি ট্রান্সফার করেছে।”
তার পরেই তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত এই তল্লাশি অভিযান। তার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। তবে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক দপ্তরে ইডির অভিযান নিয়ে পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। তাতে ইডি এবং আইপ্যাককে যুক্ত করা হয়। শুক্রবার এই দু’টি মামলা একসঙ্গে শোনার কথা ছিল বিচারপতি ঘোষের।





