সোমবার নির্বাচণ কমিশন বাংলা সহ ১২ রাজ্যে SIR-এর দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে চালু হয়েছে SIR। ভোটার লিস্টে নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে হাজার প্রশ্নের ভিড়। এরই মাঝে এসআইআর নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে তিনি গর্জে ওঠেন। বলেন, “একজন বৈধ ভোটারের নামও যদি বাদ যায়, দিল্লিতে কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করা হবে।” পাশাপাশি প্রশ্ন তুললেন কেন SIR থেকে বাদ দেওয়া হল বিজেপি শাষিত অসমকে। এরা নেপথ্যে বিজেপির কৌশল রয়েছে বলেই দাবি অভিষেকের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের চ্যালেঞ্জ,”২০২৩- ট্রেলার দেখিয়েছি, ২০২৬-এ সিনেমা দেখাব। SIR হলেও তৃণমূলের আসন বাড়বে।”
এরপরই নির্বাচণ কমিশনকে তোপ দেগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা রিভিশন নয়, আসলে পরিকল্পনামাফিক ভোটাধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করাই এর লক্ষ। আগে মানুষ ভোট দিয়ে দেশের সরকার নির্বাচিত করত। এখন দেশের সরকার তার পছন্দ মতো ভোটার বেছে নিচ্ছে। এদের লক্ষ ভোটার লিস্ট ত্রুটি মুক্ত করা নয়। SIR হচ্ছে সাইলেন্ট ইনভিজিবল রিগিং অর্থাৎ চুপিচুপি ভোটে কারচুপি। এই ভোটার লিস্টেই লোকসভা বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ত্রুটি যুক্ত হলে আগে লোকসভা ডিসলভ করে নতুন করে ভোট এ যান। আমরাও তো নির্বাচিত হয়েছি এই লিস্টে। ইস্তফা দিন সকলে। তারপর এস আই আর করুন।
২০০২ তে যখন এস আই আর হয়েছিল তখন ২ বছর সময় লেগেছিল। এখন বলছে ২ মাসে করবে। ৫ টা রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। কৌশলে অসমকে বাদ দিয়েছে। বিজেপি যেখানে ক্ষমতায় সেখানে এখন এস আই আর হবে না। ‘ এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন ,”অসমে কেন হবে না? এটা কে বেছে দিয়েছে? কার অঙ্গুলি হেলনে এসব করছে? ৫ রাজ্যে একমাত্র অসমে বিজেপির ক্ষমতায়। সেখানে এস আই আর হবে না? কমিশন সদুত্তর দিতে পারে নি।”
পাশাপাশি তিনি বলেন , “এদের লক্ষ বাংলাকে অপমান করা। হেনস্থা করা। আমি এখনও বলছি বাংলা থেকে একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে এখন থেকে 1 লক্ষ লোক দিল্লিতে আন্দোলন করবে ঘেরাও করবে। মানুষের ক্ষমতার আগে কারো ক্ষমতা টেকে না। বিজেপি বলছে তৃণমুল ভীত সন্ত্রস্ত । আজ তারিখ লিখে রাখুন, একটা বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে ২০২৩ এ ট্রেলর দেখিয়েছিলাম ২০২৫ এ পুরো সিনেমা দেখাবো। চ্যালেঞ্জ করছি। আবার চ্যালেঞ্জ করছি, বিজেপির যত ছোট বড় নেতা আছে , বলছে তৃণমুলের ভোটব্যাঙ্ক ধসে যাবে। আপনাদের ক্ষমতা থাকলে এস আই আর করার পরও তৃণমুলের আসন 1 টা হলেও বাড়বে। বিজেপিকে 50 এ নামাবো। যদি আপনারা এস আই আর করার পরও গো হারা হারে প্রেস ডেকে বলবেন বাংলার বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা ছেড়ে দেবো। চ্যালেঞ্জ রইলো।”
এদিন খড়দহের প্রদীপ করের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খড়দায় প্রদীপ কর বলে একজন মারা গেছেন। বিজেপির কজন গেছে ওখানে। তৃণমুল গেছে। আমি ওদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এস আই আর হওয়ার পর এতটাই ভীত সন্ত্রস্ত ছিলেন ঘরে ছিটকিনি দিয়ে শুতে গেছে । সুইসাইড নোট এ লিখেছেন আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এস আই আর। আর কত রক্ত চান জ্ঞানেশ কুমার , অমিত শাহ। এদের এত ঔদ্ধত্য। আজ যে প্রদীপ কর মারা গেলো তার বদলা বাংলার মানুষদেবে। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী জ্ঞানেস কুমার, অমিত শাহ। এদের বিরুদ্ধে এফ আই আর হওয়া উচিত।”




