“সব পেনড্রাইভে আছে, বাড়াবাড়ি করলে ফাঁস করে দেব। আপনাদের ভাগ্য ভালো যে আমি চেয়ারে আছি, তাই ওই পেনড্রাইভগুলো এখনও ফাঁস করিনি। অনেক কিছু জানি। বলি না, দেশের স্বার্থে। দেশকে ভালোবাসি বলে।” হাজরার প্রতিবাদ সভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রের সরকারকে একহাত নিয়ে তিনি দাবি করলেন, “ছাব্বিশে আমাদের নয়, তোমাদের পতন হবে। তোমাদের পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। দিল্লিতে বিজেপি সরকার থাকবে না, থাকবে না, থাকবে না।” সভায় উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক-সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা “পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিন।”
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার তৃণমূলের আইটি সেল আইপ্যাকের (IPAC) অফিসে ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা ইডি হানা দেয়। এর প্রতিবাদের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুর এইট বি বাস স্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত নেতা-কর্মী – সমর্থক-সেলিব্রিটিদের নিয়ে মিছিলে হাঁটেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মিছিল শেষে হাজরা মোড়ে প্রতিবাদ সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই কেন্দ্র সরকার, নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ও ইডিকে (Enforcement Directorate) একযোগে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “তুমি ভোটের আগে সমস্ত ডেটা চুরি করতে এসেছিলে। আমি জোড়াফুল রক্ষা করতে লড়াই করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। তোমরা তো এসেছো সকাল ৬টায়, আমি গেছি ১২টায়। এতক্ষণে তো সব নিয়ে চলে গেছো। আমি খবরটা শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম,এসেছে কিছু জানতে বা দেখতে। তারপর খেয়াল হল, প্রতীককে ফোন করলাম। ওর ফোন বেজে গেল, ফোন ধরল না। তখন আমার মনে হল, আমাদের দলের নথিপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছে না তো? তখন আমি তড়িঘড়ি গেলাম।”

প্রসঙ্গত, আইপ্যাকের দপ্তরে হানার বিষয়ে ইডি দাবি করে যে, কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ছিল এই অভিযান। এপ্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “কয়লার টাকা কে খায়, কী করে খায় ? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়, এখন সে অ্যাডপটেড সন হয়ে গেছে। জগন্নাথ টু শুভেন্দু টু অমিত শাহ-এই চেনে টাকা যায়।”
এদিনের প্রতিবাদ সভা থেকে এস আই আর নিয়েও সুর চড়ান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বলেন “ভ্যানিশবাবু ১.৫ কোটি ভোট কাটার ক্ষমতা নিয়ে এসেছেন, সবার নাম কেটে ভোটে বিজেপিকে জেতাতে চান। ৯০ বছরের বৃদ্ধকে ডাকছ শুনানিতে , লজ্জা করে না! দুকান কাটা দল। পাটি না দোপাটি। আপনারা কেন পদত্যাগ করবেন না। বলছে, বাংলায় রোহিঙ্গা ভর্তি, একটাও খুঁজে পায়নি। রোহিঙ্গা যদি থাকে তাহলে অসমে এসআইআর হল না কেন, ওরা তো বাংলাদেশ থেকে অসম বর্ডার দিয়ে ঢোকে।” এরপরই তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন “আমাকে আঘাত করলে আমার পুণর্জন্ম হয়।”
এদিন দুপুর ৩টে থেকে মিছিল শুরু হয় । মিছিল শুরুর আগে জনগণের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, অপমান, অসম্মান, ২ কোটি মানুষের ভোট কেটে দেওয়া হচ্ছে, অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে— তার বিরুদ্ধে রাস্তাই আমাদের রাস্তা। এটা নেতাজির কথা।”






