গতির নেশাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল চারটি তরতাজা প্রাণ। এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, অন্য হাতে স্টিয়ারিং—বন্ধুদের নিয়ে ভয়ংকর বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল এক তরুণ। ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটছিল গাড়ি। প্রচণ্ড গতিবেগে ছোটা সেই গাড়ির চার জনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ছ’জন। শনিবার রাতে রাজস্থানের উদয়পুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে তিন জন নাবালক। তাঁদের নাম মহম্মদ আয়ান (১৭), আদিল কুরেশি (১৪), গোলাম খাজা (১৭) এবং শের মহম্মদ (১৯)। দুর্ঘটনার সময় ওই গাড়িতে মোট আট জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া আর একটি গাড়ির চার জন যাত্রীও জখম হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে উদয়পুরের পুরনো আহমেদাবাদ হাইওয়ে ধরে গুজরাতের দিকে যাচ্ছিলেন ওই তরুণেরা। প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে থাকা গাড়িটি আচমকাই উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খায়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই চার জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ন’মিনিটের সেই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তীব্র গতিতে ছুটছে গাড়ি, ভিতরে উচ্চস্বরে গান বাজছে। চালকের এক হাতে সিগারেট, সামনে মোবাইলে চলছে ভিডিও। মোবাইলের দিকে তাকিয়েই তিনি গাড়ি চালাচ্ছেন। ভিডিওর শেষদিকে গাড়ির এক আরোহীকে বলতে শোনা যায়, “গতি কমাও।” কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন চালক। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা এখনও চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, চালক মত্ত ছিলেন কি না—এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গতির উন্মাদনা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, এই ঘটনা ফের একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।





