Header AD

সংবাদমাধ্যমের অফিসে আগুন, হিন্দু যুবককে জীবন্ত পোড়ানো! ইউনুসের ওপর বিশৃঙ্খলার দায় চাপিয়ে কড়া রাস্ট্রসংঘ

শুক্রবার থেকে জ্বলছে বাংলাদেশ। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই পড়শি দেশে শুরু হয়েছে বিশৃঙ্খলা। ময়মনসিংহে পিটিয়ে , জ্বালিয়ে খুন করা হয়েছে এক হিন্দু যুবককে। সেই খুনের ভিডিও মোবাইলে করতে দেখা গিয়েছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে। সেখানে দাঁড়িয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় একদল যুবককে। সারা বিশ্ব এই নারকীয় ঘটনায় স্তম্ভিত। রাজধানী ঢাকা থেকেও পরপর হিংসার ঘটনার খবর আসছে। আগুন লাগানো হয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই সংবাদমাধ্যমের অফিসে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় মুজিবুর রহমানের ধানমাণ্ডির বাড়ি। দেশের এই অস্থির অবস্থার মধ্যেই ঝামেলা বাড়ল প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের। রাষ্ট্রসংঘের প্রশ্নের মুখে তাঁর প্রশাসন। জানিয়ে দেওয়া হল, এই ঘটনার দায় সরকারকেই নিতে হবে,  যত শীঘ্র সম্ভব  স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরাতে হবে। শনিবার হিন্দু যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই প্রবল অস্থিরতার মধ্যেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। আর তখনই ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যার পর রাষ্ট্রসংঘ একটি কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করার কথা বলেছেন। পাশপাশি, সতর্ক করে দিয়েছেন হিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতি আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে ব্যাহত করতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের নিরাপদে জীবনযাপন এবং ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় নমাজ সেরে রিকশায় বাড়ি ফেরার সময় গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোটর সাইকেলে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা করল, তা এখনও অজ্ঞাত। বুধবার রাতেই ইউনুসের প্রেস উইং জানিয়েছিল, হাদির শারীরিক অবস্থা রীতিমতো উদ্বেগজনক। তারপর থেকেই বাড়ছিল আশঙ্কা।  বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দশটা নাগাদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তারপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। দুই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর হামলার খবরে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক মহল।