পাতাঝরা বসন্তে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার আগুন লাগার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একদিকে বনদপ্তর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে কিছু অসাধু মানুষের কারণে এই আগুন লাগানোর প্রবণতা থামছেই না। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে প্রশাসনের কাছে।
মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম থানার ছোট ডিডিহা গ্রামের একটি বাঁশবাগানে আগুন লাগার ঘটনায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম কল্পনা মাহাতো (৬৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধা ঠিকভাবে হাঁটতে পারতেন না। বাঁশবাগানে আগুন লাগার পর তিনি সেখানে আটকে পড়েন। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে, তবে শেষরক্ষা হয়নি।
এই প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রাম বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, জঙ্গলে যাতে কেউ আগুন না লাগায়, সেই বিষয়ে বনদপ্তর নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে বুধবার সকাল দশটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম ব্লকের সাপধরা অঞ্চলের পুকুরিয়া বিটের অন্তর্গত পাথরনালা গ্রামের জঙ্গলে ফের আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুকুরিয়ার বিট অফিসার গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ফায়ার ব্লোয়ার ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়েন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারও একইভাবে পুকুরিয়া বিটের বাঘুয়াদাম এলাকার জঙ্গলে আগুন লেগেছিল। দ্রুত বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিট অফিসারের কথায়, প্রতিদিন এলাকায় মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে জঙ্গলে আগুন না লাগানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু তবুও প্রায় প্রতিদিনই একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঝাড়গ্রামের একাধিক জায়গায় এই আগুন সাধারণ মানুষ থেকে পর্যটক সকলেরই চোখে পড়ছে। আগুন লাগার কারণ নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, শীতের শুরু থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জঙ্গলে আগুন লাগানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকেই ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ১২টি রেঞ্জের ৩৬টি বিটে ফায়ার ব্লোয়ার ও ফায়ার ওয়াচম্যান মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশের জঙ্গল এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি বিটে গড়ে দুজন করে অতিরিক্ত ফায়ার ওয়াচম্যান রাখা হয়েছে।
আগুন লাগানো বা আগুন লাগাতে সহযোগিতা করার বিষয়ে প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিললে ফরেস্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বনদপ্তর। এর পাশাপাশি মানিকপাড়া, লোধাশুলি ও ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জঙ্গলে ১৬টি এআই ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিও চালানো হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত নানা কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এত ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও আগুন লাগানোর ঘটনা থামানো যাচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দোলের দিনও ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায়—রাজ্য সড়কের কলাবনি, আইটিআই হস্টেল মাঠ, ছোট ডিডিহা, টিয়াকাটি জঙ্গল, আমলাচটি, আগুইবনি ও পাথরা জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া বুধবারও জামবনি ও ঝাড়গ্রাম ব্লকের ছোট পিন্ডারা, আমলাচটি ও ভাউদি এলাকার জঙ্গলে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গেছে।




