বেআইনিভাবে সরকারি জমি হস্তান্তর করে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা পুরসভার পুরপ্রধান স্বপন নায়ককে গ্রেপ্তার করল এগরা থানার পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাঁকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে এগরা থানার পুলিশ। এগরার ভূমিরাজস্ব দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জমি অবৈধভাবে হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে। পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে জানিয়েছেন, “এগরায় ১ নম্বর খতিয়ানের জমি অবৈধভাবে হস্তান্তর করার জন্যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” শনিবার ধৃত পুরপ্রধানকে আদালতে হাজির করা হয়।
জানা গিয়েছে, এগরা পুরসভা এলাকার ১ নম্বর খতিয়ানের জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তর করেন চেয়ারম্যান! দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২ নভেম্বর তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্র নারায়ণ রায় এবং এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নায়েককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু দলের নির্দেশ অমান্য করে পদত্যাগ করেননি স্বপন। এর মধ্যেই ভূমিরাজস্ব দপ্তরের তরফে ২০ ডিসেম্বর বেআইনিভাবে সরকারি জমি হস্তান্তর এবং জমির লিজ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করা হয় স্বপনের বিরুদ্ধে। এরফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে স্বপনকে গ্রেপ্তার করে এগরা থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, স্বপন নায়েক তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় । এই বিষয়ে দলীয় হুইপ জারি করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই ৬ জন কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও রাজনৈতিক কৌশলে তা এড়িয়ে যান তিনি। স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নিজের চেয়ার বাঁচানোর জন্য বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিনি। আস্থা ভোটের দিন স্বপন নায়েক রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বহিরাগতদের নিয়ে পুর-অফিসে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের বাকি কাউন্সিলররা। এরফলে ভোটাভুটি স্থগিত হয়ে। এরপর থেকেই এগরা শহরে কখনও পুরপ্রধানের পক্ষে, আবার কখনও বিপক্ষে পোস্টার, ব্যানার পড়তে দেখা গিয়েছে। অবশেষে এই পরিস্থিতিতে বেআইনিভাবে জমি হস্তান্তরের অভিযোগে পুরপ্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়।





