রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল মালদহের চাঁচল থানায়। অভিযোগ, গত শুক্রবার তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাঁচলের কলমবাগানের সভা থেকে শুভেন্দু ‘কুরুচিকর’ ভাষায় আক্রমণ করেন ৷ তাঁকে ডাকাত, দুর্নীতিগ্রস্ত, লম্পট, চরিত্রহীন বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু ৷ তার জেরে শুক্রবার রাতেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী তথা সাংসদ খগেন মুর্মুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য তিনি সেসময় পুলিশ অফিসারের পদ থেকে ইস্তফা দেন। শুক্রবার চাঁচলের জনসভায় সেই প্রসঙ্গ টেনে আইপিএসকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “খগেনদাকে হারিয়ে দিত ভুয়ো ভোটে। একটা দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসার ছিল। বালুরঘাটে গেলে যাকে সকলে বলে – চরিত্রহীন প্রসূন। তিনি এখন নেতা হয়েছেন। রাজ্য সরকারের পোস্টেও আছেন। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। আবার চাঁচল-হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটরও হয়েছেন।”
এরপরই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান প্রসূন। তাঁর কথায়, “প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে আমার নামে সম্মানহানিকর এবং ভিত্তিহীন কথা বলেছেন বিজেপির শুভেন্দু। যা জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়াও সম্প্রীতিকে আঘাতের উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামে বিভিন্ন কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি তৃণমূলের অন্য নেতাদের সঙ্গে তাঁকেও ব্যক্তিগত মিথ্যে আক্রমণ করেছেন ৷ এই কাজের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদনও জানিয়েছি। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে পুলিশে অভিযোগ করলাম।“ জেলা পুলিশের এক কর্তার কথায়, “অভিযোগ দায়ের হয়েছে ৷ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷”
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বক্সী ৷ গত শুক্রবার নন্দীগ্রামের বিধায়ক তাঁর বক্তব্যে রহিমকেও যথেচ্ছ কটাক্ষ করেন ৷ পালটা রহিম বলেন, “চাঁচলের কলমবাগানে শুভেন্দুর ফ্লপ শো ছিল ৷ হাতে গোনা কয়েকটি লোকের সামনে তিনি পাগলের প্রলাপ বকে গিয়েছেন ৷ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হয়ে তিনি আজ ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন ৷ আমাকে ভোটে হারাবেন বলে হুঙ্কার দিচ্ছেন ৷ আমার বাবা তুলে কথা বলেছেন ৷ আমি তাঁকে বলছি, আপনি যদি এক বাপের বেটা থাকেন তবে মালতীপুরে আসুন ৷ আমার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ান।





