Header AD

ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ থেকে বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র! প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশকুমারকে ফের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর মাঝেই ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দু’পাতার একটি চিঠি লিখেছেন তিনি। দুটি গুরুতর বিষয় নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমটি এসআইআরের কাজে বেসরকারি বা ঠিকাকর্মী নিয়োগ নিয়ে। আর দ্বিতীয়টি বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের মতামত চাওয়া প্রসঙ্গে। এসব করে কি কোনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন? সোমবারের  চিঠিতে ছত্রে ছত্রে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআর-এর কাজে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কর্মীদের ব্যবহার করা যাবে না। টেন্ডার ডেকে এক হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফ্‌টওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের জন্য রাজ্যকে প্রস্তাব দিয়েছিল সিইও দফতর। এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার অফিসগুলিই নিজেদের প্রয়োজন মতো চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে।

তাঁর প্রশ্ন, ‘এখন যাঁরা নিযুক্ত রয়েছেন এবং যাঁদের নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে— এই দুই ধরনের ক্ষেত্রে কর্মীদের কাজে কী এমন পার্থক্য থাকবে! তা হলে কায়েমি স্বার্থ পূরণ করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দেশেই কি এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে?’ পাশাপাশি যে সময়ে এবং যে ভাবে এই নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে আরও একটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন মমতা। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন দপ্তর থেকে বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা যাবে কিনা, সে বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানেই ভোটকেন্দ্র করা হয়। যাতে সাধারণ মানুষের সেখানে পৌঁছতে সুবিধা হয় এবং নিরপেক্ষতাও বজায় থাকে । বেসরকারি ভবনে ভোটকেন্দ্র গড়া হলে সেখানে স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে বিধিভঙ্গের আশঙ্কাও থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এ ক্ষেত্রেও কি কোনও রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে? এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ ভাবে বিবেচনা করার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেও জ্ঞানেশকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত সপ্তাহের ওই চিঠিতে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের অনুরোধ জানান তিনি। এসআইআরের মাঝে তৃণমূল সুপ্রিমোর এই চিঠি নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।