মধ্যপ্রাচ্যে (MiddleEast Crisis) চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের অভাব ছাপ ফেলেছে গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। আপতকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তড়িঘড়ি এসমা (ESMA) জারি করেছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কেন্দ্রকে দায়ী করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কেন্দ্র সরকারকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, “দেশের নিজস্ব গ্যাস চেনের কী হল? আমাদের গ্যাস সাপ্লাই কোথায় গেল?” এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী সোমবার পথে নামার ডাক দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
বুধবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্যাস রাজ্য সরকারের হাতে নেই। গোটা পরিস্থিতিতে আমরাও স্তম্ভিত। কেন্দ্র কেন আগে থেকে প্ল্যান করেনি? এসমা জারির আগে পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। মানুষের সুরক্ষার ব্যবস্থা কেন করেনি? সারা দেশ জুড়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তার জন্য নরেন্দ্র মোদি দায়ী। তিনি তো জানতেন এই পরিস্থিতি তৈরি হবে। কেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাপ্লাই ঠিক রাখেননি? এতে তো জিনিসপত্রের দাম বাড়বে।” এরই প্রতিবাদে আগামী সোমবার শহরে মিছিলেন ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপরই তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দুটি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ঘোষণাতেই মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন ওরা বলে দিল, ২৫ দিন না হলে মানুষ গ্যাস পাবে না? পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের কাছে আমাদের দাবি, এসআইআর-এর নাম কাটার দিকে না তাকিয়ে, মানুষের অধিকার না কেড়ে গ্যাসের সমস্যা মেটান। জরুরি পরিষেবার দিকে নজর দিন। গ্যাসের জোগান যেন বন্ধ না হয়। অটো, আইসিডিএস, মিড ডে মিল, বাড়ির রান্নার গ্যাস, ছোটখাটো রেস্তরাঁর সমস্যা মেটাতে হবে। ওদের আগে মানুষের কথা ভাবা দরকার। এটা কেন্দ্রের হাতে। আমরা চাই, দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করুক।’’ একই সঙ্গে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের কাছে তাঁর প্রশ্ন, “দেশের নিজস্ব গ্যাস চেনের কী হল? আমাদের গ্যাস সাপ্লাই কোথায় গেল? সেটাকে কি ইচ্ছে করে চেপে রাখা হচ্ছে? ভোটের সময় ছাড়া হবে? সাধারণ মানুষের জন্য কী ব্যবস্থা করা হচ্ছে তা আমরা জানতে চাই। “
এলপিজি সঙ্কটের কারণে অনেক রুটে অটো ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেস্তরাঁয় খাবারের দাম বেড়েছে। তা নিয়ে মমতা বলেন, “যাঁরা দাম বাড়িয়েছেন, তাঁদের যুক্তি সঙ্গত। কিন্তু মানুষের কথা ভাবা দরকার। মানুষের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। আমি বৈঠক করব।”গ্যাসের ভর্তুকি নিয়েও এদিন কথা বলেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি তো ভর্তুকি দিতে চাই। তাতে লাভ হবে না। কারণ গ্যাসের জোগানই নেই! গ্রামবাংলা থেকে শহর— সকলের এতে সমস্যা হচ্ছে। আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি।” যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে বলেও জানান তিনি।




