মধ্যপ্রাচ্যে (MiddleEast Crisis) চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব এবার এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। বহু গ্রাহক জানিয়েছেন, অনলাইনে গ্যাস বুকিং (Online GasBooking) করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ বুকিং করার চেষ্টা করায় সার্ভারে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে লাইন দিচ্ছেন বুকিং করার জন্য। সেখানেও সমস্যায় পড়েছেন গ্রাহকরা। দীর্ঘ লাইনে নাজেহাল সাধারণ উপভোক্তারা।
শুধু কলকাতাই নয়, রাজ্যের জেলাগুলির বিভিন্ন জায়গাতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং করার পর পরবর্তী বুকিং করা যাবে ২৫ দিন পর। আগে এই সময়সীমা ছিল ২১ দিন। নতুন এই নিয়ম জারি হওয়ার পর সাধারণ মানুষ যেমন সমস্যায় পড়েছেন, তেমনই বিপাকে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরাও।
কারণ বহু পরিবারের ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই একটি সিলিন্ডার শেষ হয়ে যায়। ফলে ২৫ দিন অপেক্ষা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিনটি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন নিয়ম তাদের ব্যবসাতেও বড় প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হোটেল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এরই মধ্যে রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়িয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। আগে যেখানে একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৮৭৯ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯৩৯ টাকা। বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও। কলকাতায় ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম বর্তমানে ১৯৯০ টাকা। এই দাম ছোট হোটেল ব্যবসায়ীদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অন্যদিকে সময়মতো গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগও ক্রমশ বাড়ছে। বুকিং করার পরও অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বয়স্ক মানুষরা। সার্ভার বিভ্রাটের ফলে অনলাইন বুকিংয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলত দীর্ঘ সময় ধরে ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে বুকিং করতে হচ্ছে তাদের। তাতেই মিলছে না গ্যাস।
বর্তমান পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই এসমা (ESMA) আইন জারি করেছে কেন্দ্র। এই অবস্থায় আইআরসিটিসি (IRCTC) জানিয়েছে, বিকল্প হিসাবে আপাতত রান্নার কাজে তারা ইন্ডাকশন ব্যবহার করছে। এমনকি সাধারণ মানুষকেও এই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু একদিকে দাম বৃদ্ধি আর একদিকে অপ্রতুল সরবরাহ দুয়ের জোড়া ফলায় বলাই যায় চরম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়ছে।




