Header AD
Trending

‘জিএসটি লুঠ করছে কেন্দ্র’, আর ‘SIR হল ভোটবন্দি’ – উত্তরবঙ্গ থেকে নানা ইস্যুতে কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

“বাংলা থেকে জিএসটি লুঠ করে অন্য রাজ্যকে দিয়ে দেয়। জিএসটির টাকা রাজ্যেরই প্রাপ্য। রাজ্যকে এক পয়সা দিয়ে সাহায্য করে না কেন্দ্র। টাকা যদি নাই দেয়, তাহলে জিএসটি তুলে দেওয়া উচিত।” উত্তরবঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক থেকে ফের কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। পাশাপাশি এদিন SIR নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন “আপনারা নোটবন্দি দেখেছেন, SIR হল ভোটবন্দি।” এর সঙ্গে দেশের গর্ব রিচা ঘোষের নামে চাঁদমনী বাগানে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার ফের উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন উত্তরকন্যা থেকে ২২ জেলার সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠক থেকে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক কর্মসূচীর ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফের একবার সরব হলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ৪ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এদিন ফের সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,” দুধিয়া ব্রিজ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশে আরও একটি পাকা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। ১৪ হাজার ৭৯৪ পরিবারকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৬১. ৩৩ কোটি টাকা। ৮টি জেলার ৩৪৯১ টি জমির পাট্টা বিতরণ করা হয়েছে। রাজ্যের ১ লক্ষ ৩৭ হাজার কৃষককে শস্যবীজ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য খরচ হয়েছে ১০ কোটি টাকা। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য ১৪ টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। চা বাগান শ্রমিকদের শিশুদের জন্য ৯৫টি ক্রেস এবং স্কুল যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১০টি স্পেশাল স্কুলবাস চালু করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ লক্ষ ১৬ হাজার কৃষককে শস্য, গম, ডাল বীজ দিতে খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। বন্যায় প্রচুর কৃষকের সবজি চাষ নষ্ট হয়েছে। এমন ২১ হাজার কৃষককের চারাগাছ দিতে রাজ্যের খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। দার্জিলিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কমলালেবু ও বড় এলাচ চারা সরবরাহ করা হল।”

উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করে ফের ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিন তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ” ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন নিয়ে কেন্দ্র উদাসীন । সিকিম-ভুটানের জলে প্রত্যেকবার প্লাবিত হয় উত্তরবঙ্গ। তিস্তা বাঁচাতে কোনও উদ্যোগ নেয় না কেন্দ্র। আর ডিভিসির জলে দক্ষিণবঙ্গে বন্যা হয়। এগুলো সব ম্যানমেড বন্যা। নানা সময়ে রাজ্যের ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক টাকা দিয়েও সাহায্য করেনি কেন্দ্র। “

এরপরই কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। জিএসটি নিয়ে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। তিনি বলেন, রাজ্যের জিএসটির টাকা লুঠ করছে কেন্দ্র সরকার। এই টাকা অন্য রাজ্যকে বরাদ্দ করছে। ওরা করছে জিএসটি লুঠ, আর বলছে ঝুট। জিএসটির টাকা রাজ্যেরই প্রাপ্য। এরকম চলতে থাকলে কেন্দ্রের জিএসটি তুলে দেওয়া উচিত।” এরপরই কেন্দ্রের বকেয়া টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চার বছর ধরে সব টাকা বন্ধ। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ১০০ দিনের টাকা চালু করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রের টাকা বন্ধের পরেও আবাসন নির্মাণে যোগ্য ১২ লাখ পরিবারকে মোট ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য।” এমনকী আগামী ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মধ্যে আরও ১৬ লাখ পরিবারকে অর্ধেক বাড়ির টাকা দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন পর্যালোচনা বৈঠক থেকে হঠাৎ নির্বাচনের আগে কম সময়ের মধ্যে কেন এসআইআর করার এত তাড়াহুড়ো- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআরকে ভোটবন্দি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন “আপনি নিজেকে চেনেন এটা প্রমাণ করতে হবে, এটা লজ্জার।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, SIR-এর নামে রাজ্যে ‘সুপার এমার্জেন্সি’র পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।