বাংলাদেশের বিশেষ আদালত শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ায় অসন্তুষ্ট রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) মানবাধিকার সংগঠন। সোমবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। ট্রাইবুনালের রায় ঘোষণাকে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে ব্যাখ্যা করলেও মহম্মদ ইউনুসের বিশেষ আদালতের এই রায়ের নিন্দায় সরব হল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হল বাংলাদেশের ন্যায়বিচার নিয়ে। এই রায়কে ঘিরে নিন্দার ঝড় বিশ্বজুড়ে।
হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার পরে সোমবার রাতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংগঠনের মুখপাত্র রবিনা সামদাসানি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মৃত্যুদণ্ডের রায়ের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা সব পরিস্থিতিতে এর (মৃত্যুদণ্ডের) বিরোধিতা করি।” পাশাপাশি তিনি লেখেন, “এই রায় বাংলাদেশে গত বছরের বিক্ষোভের সময়ে দমন পীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।” বস্তুত, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে একটি তথ্যানুসন্ধান রিপোর্ট তৈরি করেছিল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংগঠন। রবিনা জানান, ওই রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই তাঁরা নির্দেশদাতা এবং নেতৃত্বের জায়গায় থাকা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক মাপকাঠি অনুসারে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য বলে আসছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যার সুরাহা এবং ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশের আদালতে চলা বিচারপর্ব সম্পর্কে রাষ্ট্রসংঘ বিশেষ অবগত নয়। তবে এই বিচারপ্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্যভাবে হওয়া উচিৎ। কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত হবে তার বিচার ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডেই হওয়া উচিৎ।”
এই মামলার ক্ষেত্রে যে অভিযুক্তের (হাসিনার) অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া চলেছে এবং মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংগঠনের মুখপাত্র। বিবৃতিতে তিনি জানান, “এই বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। ফলে যে কোনও পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রসংঘ এই বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে। আমরা আশা করি যে বাংলাদেশ সততা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।”
শুধু রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংগঠনই নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীও এই রায়ের সমালোচনা করেছে। ব্রিটেন থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ মনে করছে, এই বিচারপ্রক্রিয়া ‘সুষ্ঠু এবং ন্যায়সঙ্গত’ হয়নি। তাদের মতে, গত বছরের জুলাই-অগস্টে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহি পাওয়া প্রয়োজন। তবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশে মানবাধিকার আরও বেশি করে লঙ্ঘিত হয়। এটি শাস্তি সবচেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর। কোনও ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় এর (মৃত্যুদণ্ডের) স্থান নেই।
বেলজিয়াম ভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-ও মনে করছে, এই বিচারপ্রক্রিয়া সমালোচনামুক্ত নয়। তাদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার হলে, তা থেকে প্রায়শই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এ মামলার ক্ষেত্রে যে দ্রুততার সঙ্গে শুনানি হয়েছে, তা বিবাদী পক্ষের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং সুষ্ঠু বিচার নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রাখে বলেই মনে করছে তারা।





