২৬ সেপ্টেম্বর , শুক্রবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী। এদিনই সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঈশ্বরচন্দ্রের ভূয়সী প্রশংসা করে গিয়েছেন। তারপরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। ৬ বছরের পুরনো ‘পাপে’র কথা মনে করিয়ে দিলেন। অভিষেক এদিন বলেন, “বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল শাহের নেতৃত্বেই। বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়েই ক্ষমা চাওয়া উচিত তাঁর।“
বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকীতে বিদ্যাসাগর কলেজে গিয়েই বাংলার মহান সমাজ সংস্কারককে শ্রদ্ধা জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তারপরই অমিত শাহকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। বহিরাগতরা মূর্তি ভেঙেছিল।যারা সেদিন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল তারা আজ বহালতবিয়তে বিজেপি করছে“ । তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ” বাইরে থেকে যারা এসেছিল, উত্তর ভারতের সংস্কৃতি চাপাতে চেয়েছিল। মূর্তি ভাঙার ফল বাংলার মানুষ তাদের দিয়েছে।” শাহের উদ্দেশে অভিষেকের কটাক্ষ, “আমার সত্যি খারাপ লাগল আমি যখন শুনলাম ঠিক ১০ মিনিট দূরে তিনি একটি পুজো উদ্বোধন করতে এসেছেন। অথচ তাঁর এতটুকু বিবেকবোধ নেই যে ১০ মিনিট দূরে বিদ্যাসাগরের বাড়ি বা বিদ্যাসাগর কলেজে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করি। এই জন্যই এদের বাংলা বিরোধী বলি।“ এদিন বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে অভিষেক জানান, “আমাদের রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ঘাটাল চন্দ্রকোণা রোডের ওপর তোরণ তৈরি করা হয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয় করে তার সৌন্দর্যায়ন করা হয়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতি মন্দির তৈরি করা হয়। কলকাতায় তাঁর যে বাড়ি রয়েছে সেটাও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই কাজ গুলো বিগত সরকারের আমলে হয়নি। আমরা করেছি।“
এদিন শাহের এই বিদ্যাসাগর স্মরণের নেপথ্যে রাজনীতি দেখছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। ২০১৯ সালে ভোটের প্রচারে কলকাতায় এসেছিলেন অমিত শাহ। অভিযোগ, বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে দিয়ে তাঁর রোড-শো যাওয়ার সময় সেই মিছিল থেকে প্ররোচনা দিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের উত্তেজিত করে হামলা চালানো হয়েছিল বিদ্যাসাগর কলেজে। ভেঙে ফেলা হয় বিদ্যাসাগরের মূর্তি। ২০০ বছরের জন্মবার্ষিকী ছিল সে বছর। এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতির আবহে তুমুল বিতর্ক দানা বাঁধে সেই সময়।




