Header AD

বয়স্কদের হিয়ারিং! মঙ্গলবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুশিয়ারি তৃণমূলের

ভোটার তালিকা সংশোধনে নাম তোলার শুনানি বা ‘হিয়ারিং’-এর নামে সাধারণ মানুষ, বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের চরম হয়রানি করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে আজ সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। এই দলের ৫ সদস্যের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজা, বাপি হালদার, পুলক রায় এবং বীরবাহা হাঁসদা। এই এসআইআর প্রক্রিয়ার হিয়ারিংয়ে বয়স্কদের কেন অফিসে ডাকা হচ্ছে? কেন তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছে না কমিশনের লোকজন? গত শনিবারই এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগ জানাতে গিয়েই সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। বৈঠকের মাঝে সিইও-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের সমস্যাগুলির কোনও সমাধান করছেন না। কোনও পদক্ষেপও করা হচ্ছে না।”

গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এসআইআর-র হিয়ারিং পর্ব। ওইদিনই সিইও দপ্তরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি। সেখানে গিয়ে নানা অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা। হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় নানা অসুবিধা নিয়েও অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন। তারপর গত শনিবার বিএলএ-২’দের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে বয়স্কদের হিয়ারিংয়ে ডাকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, সোমবার এই নিয়ে সিইও দফতরে যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেইমতো এদিন পার্থ ভৌমিক, শশী পাঁজারা সিইও দফতরে যান। সিইও-র সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ ভৌমিক বলেন, বয়স্ক নাগরিকদের যে সমস্যাগুলি নিয়ে বারবার জানানো হয়েছে, সেগুলির এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আমাদের বিষয়টি জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে তুলে ধরা না হয়, তাহলে আমরা আগামিকাল আবার এখানে আসব।” তিনি আরও বলেন, “CEO আমাদের বলেছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলবেন। বয়স্কদের বাড়িতে গিয়ে হিয়ারিংয়ের বিষয় নিয়ে আজকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সিইও।” যাঁরা রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের ভার্চুয়ালি হিয়ারিংয়ের দাবিও জানান তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে যদি সিইও-র কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া যায়, তবে তাঁরা ফের বিকেল তিনটেয় কমিশনের দপ্তরে আসবেন। প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আইনি লড়াইয়ের পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।