Header AD

প্রাথমিকে ৩২হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ হাইকোর্টের! রায়কে স্বাগত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের। ২০২৩ সালের মে মাসে ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের রায় দিয়েছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই রায়কে খারিজের নির্দেশ দিল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ।

এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মালদা থেকে তিনি বলেন “শিক্ষকদের চাকরি বেঁচে গেছে আমি খুশি। কথায় কথায় চাকরি খেয়ে নেব এটা তো ঠিক না, আমাদের কাজ চাকরি দেওয়া, খেয়ে নেওয়া নয়”। হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় ঘোষণার পরেই এক্স হ্যান্ডেলে প্রাথমিক শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি লেখেন, ” আজকে মহামান্য হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন জানাই। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রইল। শিক্ষকদেরও সতত শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।”

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চলবে দুর্নীতির তদন্ত। তবে হাই কোর্টের নির্দেশে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ২০১৪ সালের টেটের মাধ্যমে নিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকরা।

ডিভিশন বেঞ্চের রায়দানের পর এজলাস থেকে বেরিয়ে সরকারি আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানালেন, “সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী দুর্নীতির জন্য ৩২ হাজার প্রাথমিক চাকরি বাতিল করা হয়। কর্তৃপক্ষের ভুল কিংবা দুর্নীতির জন্য নিরীহ চাকুরিরতদের চাকরি বাতিল হতে পারে না। যাঁরা সফল হননি, তাঁদের জন্য সব কিছু ড্যামেজ হতে পারে না। এতদিন ধরে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁরা কোনও প্রভাবশালীর সঙ্গে যুক্ত নন। তাই তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে বলেই জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। তাতেই ওঠে অনিয়মের অভিযোগ। ২০২৩ সালের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিলেও চাকরি বাতিলের পরও শিক্ষকদের কর্মরত থাকতে বলা হয়। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিন মাসের মধ্যে রাজ্যকে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাতে যোগ্য ও উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চাকরি বহাল থাকবে। এরপর এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় পর্ষদ। তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে শুনানির জন্য।
ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, একক বেঞ্চের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি থাকছে। তবে পর্ষদকে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। উল্লেখ্য, একক বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য ও পর্ষদ। তাদের দাবি, সমস্ত পক্ষের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপরই মামলাটি হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো হয়। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ডিভিশন বেঞ্চকে সমস্ত পক্ষের বক্তব্যই শুনতে হবে। এরপর মামলাটি বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে আসে।

গত ১২ নভেম্বর মামলাটির শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায়দান করে।