Header AD

বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন! দীপু দাসের পর পুড়িয়ে মারা হল খোকনচন্দ্র দাসকে

ফের বাংলাদেশে উন্মত্ত জনতার নির্যাতনের বলি হল এক হিন্দু। দীপু দাসের ফের একবার৷ ঢাকায় শনিবার সকালে মৃত্যু হল খোকনচন্দ্র দাস নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর। ২০২৫ সালের শেষদিনে খোকনকয়ে  জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে উন্মত্ত জনতা। তিনি প্রাণে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন৷ পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কিন্তু শেষরক্ষা হল না৷ ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন গুরুতর জখম খোকন। শনিবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা গিয়েছে, পঞ্চাশ বছরের খোকন দাস নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর চড়াও হয় একদল উন্মত্ত জনতা। তারা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খোকনকে। এরপর পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে তাঁকে। এই নিয়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর লাগাতার চতুর্থ আক্রমণের ঘটনা এটি। সেই সময় তিনি বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। শনিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত খোকনের স্ত্রী বলেছেন, ”আমি জানি না কারা কারা ছিল এই কাণ্ডের নেপথ্যে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বামী একজন সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তিনি কারও ক্ষতি করতেন না।”

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত তিনদিন ধরে খোকন দাসের চিকিৎসা চলছিল ৷ তাঁর দেহের ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল ৷ মুখ এবং ফুসফুস গুরুতর জখম হয়েছিল ৷ সরকারি প্রক্রিয়া সপন্ন হলে খোকন দাসের দেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে ৷ উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তাঁর শরীরে।

খোকন দাসের আত্মীয় প্রান্ত দাস  সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “পরিবার এই হত্যার যথাযথ তদন্ত ও বিচার চায় ৷ একজন দোষীকেও যেন রেয়াত না-করা হয় ৷ এছাড়া যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের যেন অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হয় ৷” মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংস্রতা দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে সরব দেশ ও বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলি। দীপুর হত্যার ঘটনায় পদ্মাপাড়ের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিল ভারত।