Header AD

এসআইআরে অগ্রাহ্য আবাস যোজনার নথি, শুনানি শেষে কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় বিতর্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIRinWestBengal) প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাওবাংলার বাড়ি প্রকল্পের কোনও নথি গ্রহণযোগ্য নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (সিইও) চিঠি দিয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এই দুই প্রকল্পের নথি কি এসআইআরের শুনানিতে ধরা হবে। সোমবার কমিশন জবাবে জানিয়েছে,  আবাসন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তার অনুমোদন পত্র বা কার্ড এসআইআরের জন্য বৈধ নথি নয়।

এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উল্লেখ করেছে কমিশন। আদালত জানিয়েছে, যাঁরা এসআইআরের নোটিশ পেয়েছেন, তাঁরা কেবল কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নথির ওপরই নির্ভর করতে পারবেন। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে “সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র”-এর কথা বলা ছিল, আবাসন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার অনুমোদন তার মধ্যে পড়ে না, এই ব্যাখ্যাই দিয়েছে কমিশন।

রাজ্যে এসআইআরের শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ। এখন চলছে নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাঁরা শুনানিতে কেবল আবাস যোজনার নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে অনুমোদিত ১৩টি নথির তালিকা অনুযায়ী অন্য প্রমাণপত্র চাইতে পারে জেলা প্রশাসন।

এদিকে নতুন নির্দেশিকায় কমিশন আবারও জানিয়েছে ইন্দিরা আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও বাংলার বাড়ি—এই তিন প্রকল্পের কোনও শংসাপত্রই গ্রহণযোগ্য হবে না। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়েও শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালের রাজ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী জেলা শাসক বা মহকুমা শাসকের সই করা নির্দিষ্ট ধরনের সার্টিফিকেটই বৈধ।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছে, শুরুতেই কেন বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি এবং রাজ্যের ক্ষেত্রে আলাদা আচরণ হচ্ছে কি না। তাদের অভিযোগ, এতে বহু আবেদনকারী বিপাকে পড়তে পারেন। পাল্টা অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও কমিশনের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও। এদিন বিকেলে এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষ। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, হিয়ারিং নোটিশ চলাকালীন এই নির্দেশ এল না কেন? এটা চূড়ান্ত অনৈতিক।

যাঁদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়বে, তাঁদের নতুন করে শুনানিতে ডাকা হওয়ার সম্ভাবনা কম। চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গেলে, প্রকাশের পাঁচ দিনের মধ্যে জেলা শাসকের কাছে আবেদন করা যাবে। সেখানেও সমস্যা হলে পরবর্তী ধাপে সিইও দফতরে আবেদন, এবং প্রয়োজনে ফর্ম ৬ পূরণ করে নতুন করে নাম তোলার সুযোগ থাকবে।

কমিশনের বার্তা স্পষ্ট, অনুমোদিত নথির বাইরে কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। আর ভোটার তালিকার শুদ্ধতা বজায় রাখতে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।