বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবস। এদিন ধর্মতলার মেয়ো রোডের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এসআইআর ইস্যুতে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঁশিয়ারি দিলেন, ‘জীবন থাকতে কারও ভোটাধিকার কাড়তে দেব না।’ বিঁধলেন বিজেপি ও বাম- উভয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরকে। কেরলে নেতাজি সম্পর্কে ভুল তথ্য পড়ানো হচ্ছে দাবি করে বামেদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। একই সঙ্গে বিজেপিকে বিঁধলেন, এসআইআর, বাংলার শ্রমিকদের হেনস্থা ও পরিবারতন্ত্রের ইস্যুতে। বিঁধলেন নির্বাচন কমিশনকেও। বললেন, “আমি সব এজেন্সিকে সম্মান করি। কিন্তু বড়রা ললিপপ নিলে তা মানায় না।” প্রসঙ্গত, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নির্বাচনের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠাদিবসে সেই সুর আরও চড়ালেন তিনি। বিহারে এসআইআরের পর বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন হবে বলে জল্পনা। তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ জানিয়েছেন, এসআইআরের নামে বিজেপি সরকার এনআরসি করতে চাইছে। মঞ্চ থেকে বললেন, “এনআরসি করে ভোটারদের নাম কাড়ার চেষ্টা। জীবন থাকতে কারোর ভোটাধিকার কাড়তে দেব না।” আরও অভিযোগ তোলেন, বিজেপ ডিএম, বিডিওদের ভয় দেখাছে। ললিপপ দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা ললিপপ বাচ্চাদের দিই। ১৮ বছরের নতুন ভোটারদের ললিপপ দিই না। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রদান করি। তাই আপনাদের জোর জুলুম বাংলা মানছে না, মানবে না। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি ছাড়েনি, ছাড়বে না।”এরপরই ভিন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের হেনস্হার প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। বলেন, “আপনারা মানুষের অধিকার কেড়ে নেন। ক্ষমতা বিসর্জন দেন। বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে গরীব মানুষগুলোর উপর অত্যাচার করেন। গরীব মানুষ আমার হৃদয়, তাঁদের ভালোবাসি। আমি জাত-পাত মানি না।”অন্যদিকে, বাম শাসিত কেরলে পড়ানো হচ্ছে নেতাজি ইংরেজদের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই দাবি তুলে,তাদের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বেঁধেন নির্বাচন কমিশনকেও। বলেন, “ইলেকশন কমিশনের চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু বড়রা যদি ললিপপ খায় তাহলে মানায় না।”





