গত কয়েক মাস ধরে এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে কমিশনকে হাতিয়ার করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে বিজেপি। এই আবহে বুধবার সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভা থেকে ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সভা থেকে তাঁর হুঙ্কার, ‘বিজেপিকে বাংলায় ঢুকতে দেব না, ওদের অহঙ্কার চূর্ণবিচূর্ণ করব।’ একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”
এদিনের সভা থেকে এসআইআর নিয়ে ফের সুর চ্রান তিনি। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করে বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথামতো চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষ থেকে বিএলও-র মতো সরকারি আধিকারিক আত্মহত্যা করছেন। অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করি, আপনার স্ত্রীর টাইটেল কী? সরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীর টাইটেল কী? বাংলার মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি যায়। পদবি পালটে যায়। তাই বলে এসআইআরে ডাকবে। আমাকে জেলে ভর, গুলি কর, আই ডোন্ট কেয়ার। আমাকে জেলে দিলে মা-বোনেরা জবাব দেবে। কৃষকরা জবাব দেবে।” এরপরই তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রতিবাদ করে গর্জে ওঠেন। বলেন, “আজ না হলে কাল তো আমি যাবই দিল্লি। দরকারে কোর্টে আমিও যাব। আইনজীবী হয়ে নয়, সাধারাণ মানুষ হিসাবে। সব ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানাচ্ছেন!” তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন “আগে মানবিক হোন, দানবিক হবেন না।”
পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। শুনানিতে ডাকলে সকলে যান। সহযোগিতা করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ওরা ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। অহংকার দেখাচ্ছে। সব অহংকার ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করব। শুধু আপনারা পাশে থাকুন। সুস্থ থাকুন।” এসআইআর প্রক্রিয়ায় সকলকে সহযোগিতা করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “চিন্তা করে নিজের শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। ডাকছে ডাকুক। যাবেন। এটা বাংলা। এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”
এদিনের সভা থেকে বাম ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি কিন্তু জীবন দিয়ে লড়াই করি। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি সিপিএম আমলে। ২৬ দিন এই সিঙ্গুরে অনশন করেছি। সিঙ্গুর আন্দোলনের একটা বড় অংশ ২০০৬-০৮ এখানেই কেটেছে। এরপর বিজেপি এসে এসআইআর-এর নামে NRC-র চক্রান্ত করছে। বিজেপি গত ১০ বছর ধরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাচ্ছে। আমাদের উন্নয়ন দেখছে, আর লুচির মতো ফুলছে। যারা মানুষকে হত্যার চক্রান্ত করছে তাদের ধিক্কার জানাই।”
সিঙ্গুরের সভা থেকেই এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ঘোষণা করেন, “সিঙ্গুরে কৃষিও চলবে , শিল্পও চলবে। তবে কৃষি জমি নিয়ে নয়।” সিঙ্গুরে ৮ একর জমিতে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির কথাও এদিনের সভা থেকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ৭৭ একর জমিতে ইকমার্স শিল্প গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
এদিন সভা থেকে বাংলা ভাষা নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাকে ধ্রূপদী ভাষা হিসাবে কেন্দ্রের স্বীকৃতি প্রদানকে একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছি। রিসার্চ টিম তৈরি করেছি। আমরা বলেছি বলেই তোমরা স্বীকৃতি দিয়েছ।” একই সঙ্গে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তা নিয়েও সরব হন তিনি।





