“যদি কেউ বাংলার মতো নিঃশর্তভাবে মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারেন , তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।” শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের রণ সংকল্প সভা থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলিকে ফের একবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর কয়েকমাস বাদেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শুক্রবার বারুইপুরের সাগর সংঘের মাঠের সভা থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিলেন অভিষেক। জনগণের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “২০২৬ এর নির্বাচন শুধু বিজেপিকে পরাজিত করার নয় এদের শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও আসনে জয়ের ব্যবধান যেন ৫০ হাজারের নিচে না হয় এটা সুনিশ্চিত করতে হবে।”
এদিনের সভার শুরুতেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ জানালেন, “এক মাস ধরে ঘুরব। মানুষের পাশে দাঁড়াবো। যাতে মানুষের অসুবিধে না হয়। আপনারা মাঠে ময়দানে লড়াই করবেন আমিও সহকর্মী হিসেবে সঙ্গে থাকব।” এর সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষদের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা, “কালীঘাট আমার জন্মভূমি আর দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। ২০০৮ সালে পরিবর্তনের চাকা এই জেলা ঘুরিয়ে ছিল। এবার এই জেলা থেকে ভাঙড় জিততে হবে। ৩১ এ ৩১ করতে হবে। একটা বুথেও বিজেপিকে মাথা চাড়া দিতে দেওয়া যাবে না।”
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “কেন বিজেপিকে বাংলা বিরোধী জমিদার বলি! এরা বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে সচেষ্ট । আর এখন বাংলার গরীব মানুষকে মারতে এস আই আর নিয়ে এসেছে।” মধ্যপ্রদেশে বিষাক্ত জলে মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বিজেপিকে তোপ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।বললেন, “বিশুদ্ধ পানীয় জল দিতে পারে না। আর ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে চাইছে।” ব্রিগেডে আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠনের গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে প্যাটিস বিক্রেতাকে মারের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, “কেউ গীতার একটা শ্লোকও বলতে পারবে না। সত্যি যদি গীতা পড়ে থাকে কেউ, তাহলে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করতেন না। কে কী খাবে, কে কী চিকেন প্যাটিস খাবে, কে মাছ খাবে, কে রোল খাবে, সব কি দিল্লির বাবারা ঠিক করবে?”
প্রসঙ্গত এদিনের সভার ক্রস র্যাম্প মঞ্চ নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে দর্শক , মিডিয়া কারোরই উৎসাহের অন্ত ছিল না। সভায় এসে তিনি এই ধরণের মঞ্চ নির্মাণের ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, র্যাম্প নিয়ে সবার খুব কৌতূহল। র্যাম্পে ৩জন ভূতকে হাঁটাব। এরপরই এস আই আর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে সভামঞ্চে খসড়া তালিকায় ৩ মৃত ভোটারকে হাজির করেন। কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন এদের মৃত ঘোষণা করেছে। এরকম ২৪ জন আছে এই জেলায় যাদের মৃত ঘোষণা করেছে। এইতো ওদের চক্রান্ত। জ্ঞানেশ কুমার তৈরি থাকো দিল্লিতে তৃণমুল যাবে। যারা নোটিশ পাঠিয়ে আনম্যাপড করেছে, তাঁদের বাংলার ম্যাপ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।”
এদিনের সভা থেকে ফের একবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “অসিত সরকার, গৌতম বর্মন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। মহারাষ্ট্রে সাত মাস জেল খেটেছে বাংলায় কথা বলার অপরাধে। এদের মধ্যে একজন বিজেপির বুথ সভাপতি। সুকান্ত মজুমদারকে বলে কোনও লাভ হয়নি। এইতো বিজেপি। তাদের সঙ্গে থেকে লড়াই করে বালুরঘাটের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে তৃণমুল। যে বিজেপি তাদের বুথ সভাপতিকে রক্ষা করতে পারে না তারা বাংলাকে রক্ষা করবে?”





