ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র লড়াইকে প্রকাশ্যে কুর্নিশ জানালেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)। শারীরিকভাবে ভগ্ন হলেও শুক্রবার তিনি নিজে উপস্থিত হন মঞ্চে। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয় গোস্বামী বলেন, তিনি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন আবেদনকারী, কারণ এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। বৈধ ভোটারের প্রমাণ দিতে হয় তাঁকেও । তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থতা ও একসঙ্গে তিনটি অস্ত্রোপচারের পরও তিনি আদালতে আবেদন করতে পেরেছেন—আর সেই সুযোগ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁর কথায়, “এসআইআর ইস্যুতে বহু সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন, এমনকী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় লড়াই লড়তে পারেন একমাত্র মমতাই”।
জয় গোস্বামীর বক্তব্যের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর ইস্যুতে কবি নিজেও একজন ভুক্তভোগী। তাঁকেও শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল, যা তাঁর মতে অপমানজনক এবং অমানবিক।
নিজের জীবনের একটি ব্যক্তিগত ঘটনার কথাও এদিন তুলে ধরেন কবি। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর বাড়িতে ফোন করে ভোটাধিকার প্রমাণের নথি চাওয়া হয়েছিল। সেই সময় স্ত্রী ও মেয়ে বিষয়টি সামলেছিলেন, যাতে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় কোনও চাপ নিতে না হয়। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি মমতার ডাকে তিনি ভাষা দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে নস্টালজিয়ায় ভেসে যান কবি জয় গোস্বামী। তিনি স্মরণ করেন নন্দীগ্রাম আন্দোলন (Nandigram movement)-এর সময়কার একটি ঘটনা, যা ঘটেছিল লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী (Mahasweta Devi)-র বাড়িতে গভীর রাতে।। কবির কথায়, একবার তিনি মমতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—তিনি বাড়ি ফিরবেন কি না। উত্তরে মমতা শান্তভাবে বলেছিলেন, তিনি নন্দীগ্রাম যাচ্ছেন। তখন তিনি মুড়ি খেতে খেতেই বলেন, “কাজ করা ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে জয়দা?” পুরনো দিনের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়েই জয় গোস্বামী আবেগঘন মন্তব্য করেন—মৃত্যু পর্যন্ত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকবেন।
নন্দীগ্রামের ১৪ মার্চের গুলিচালনার রাতের কথাও এদিন তুলে ধরেন কবি। তাঁর কথায়, সেই রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়ি নিয়ে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কবীর সুমন (Kabir Suman)। পথে তিনবার তৎকালীন সরকারের পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতাদের—প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee) এবং মনমোহন সিং (Manmohan Singh)-কেও ফোন করেন। শেষ পর্যন্ত রাত পৌনে চারটে নাগাদ রাস্তা পরিষ্কার হলে তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছন, যেখানে তখন একের পর এক আহত ও মৃত মানুষ আসছিলেন। ভোর পাঁচটা নাগাদ তিনি নন্দীগ্রামে পৌঁছন।
এই সমস্ত স্মৃতি তুলে ধরেই জয় গোস্বামী স্পষ্ট ভাষায় বলেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই যতদিন চলবে, তিনি ততদিন তাঁর পাশে থাকবেন।




