বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দিন দেরি নেই। তার আগেই ফের নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে চাপানউতর। ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কি এ বার সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থেকেই ভোটে লড়বেন? মহেশতলা বিধানসভার চক চাঁন্দুল রথতলায় ‘সেবাশ্রয় ২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এপ্রসঙ্গে বলেন ” দল যেখানে দাঁড়াতে বলবে আমি সেখানেই দাঁড়াবো – সেটা নন্দীগ্রাম হতে পারে অথবা দার্জিলিং হতে পারে।”
সোমবার সেবাশ্রয় ২ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সেখান তাঁকে আগামী নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান- এটি তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এটি তৃণমূলের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো হবে।” সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছিলেন, তাঁর কাছে “নিশ্চিত খবর” আছে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়ে সুকান্ত মজুমদারকে কটাক্ষ করে বলেন, “ওটা হয়তো সুকান্ত মজুমদারের মনের সুপ্ত বাসনা হতে পারে। কিন্তু এটি তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ বিষয় তাই তৃণমূলের উপর ছেড়ে দিন। আমাকে দল যেখানে দাঁড়াতে বলবে আমি সেখানেই দাঁড়াবো। সেটা নন্দীগ্রাম হতে পারে অথবা দার্জিলিং হতে পারে। যদি সুকান্ত মজুমদার অতটাই পারদর্শী হতেন তাহলে তিনি মাত্র ৮ হাজার ভোটে জিততেন না।”
প্রসঙ্গত, বাংলার মানুষের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে এদিন ফের সরব হন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। “বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্র সরকার আটকে রেখেছে। উল্টে গত সাত বছরে বাংলার গরীব মানুষকে শোষন করে জমিদারদের সরকার জিএসটি বাবদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ১০০ কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে এরাজ্য থেকে । আসলে বাংলার গরীব মানুষকে এভাবেই বঞ্চিত, নিপীড়িত, শোষিত করে রাখাই কেন্দ্রের জমিদার বিজেপি সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।” এভাবেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিজেপিকে নিশানা করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।





