‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) না থাকলে মাওবাদী আর সিপিএমের বোমা-বন্দুকের তলায় মাথা নিচু করেই বাঁচতে হতো,১৫ বছরে তৃণমূলের সরকার পুরুলিয়ায় শান্তি ও সম্প্রীতির বিজয় রথ ছুটিয়েছে’বুধবার রণ সংকল্প সভার মঞ্চ থেকে এই ভাষাতেই পুরুলিয়ায় বিরোধীদের নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পুরুলিয়ার অতীত অশান্তির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে উন্নয়ন আর শান্তির খতিয়ান তুলে ধরে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
২০১১ সালের আগের পুরুলিয়ার অশান্ত দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এদিন তিনি বলেন, আগের থেকে এই জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। জঙ্গলমহল ছিল মাওবাদী নাশকতার আতঙ্কে জর্জরিত। সেই ভয়াল অধ্যায় পেরিয়ে আজ এলাকায় শান্তি ফিরেছে, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে জনজীবন—এটাই তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে দাবি তাঁর।
বাম আমলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “তখন পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টার আগে থানার বাইরে বেরোতেও ভয় পেত। কোথাও কেউ যাতায়াত করতে পারত না। আজ সেই ছবি পুরো বদলে গিয়েছে।” এরপর সরাসরি মোদী-শাহকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কটি বড় মাওবাদী হামলা হয়েছে, কজন মানুষের প্রাণ গিয়েছে?
১৯৯৮ সালে ঝালদায় তৃণমূলের জেতা প্রধানকে সিপিএমের হাতে খুন হওয়ার ঘটনার কথা টেনে এনে অভিষেকের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আজও পুরুলিয়ার মানুষকে মাওবাদী আর সিপিএমের বোমা-বন্দুকের নিচে মাথা নিচু করেই বাঁচতে হত।” বাম থেকে বিজেপিতে রূপান্তর নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর কটাক্ষ, পুরুলিয়ার বহু প্রাক্তন বাম নেতাই আজ বিজেপির নেতা। অভিষেক বলেন, “ বাম আমলের হার্মাদরাই আজ বিজেপির জল্লাদ।”
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতকে নিশানা করে সভা থেকে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, মোদী সরকারের ১১ বছরে সাংসদ হিসেবে তিনি জেলার জন্য কী করেছেন। বিশেষ করে রেলের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, চক্রধরপুর এক্সপ্রেস বা পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন নিয়মিত ৮–১০ ঘণ্টা দেরিতে চলে। “একটা ট্রেনই যদি সময়ে হাওড়া পৌঁছাতে না পারে, তা হলে এত বছরে সাংসদ কী করলেন?”—এই প্রশ্নও ছুড়ে দেন তিনি। এরপরই তিনি পুরুলিয়াবাসীকে আশ্বাস্ত করে বলেন, “রাত ১০টার ট্রেন পরের দিন ভোরে পৌঁছনো—এটা আর বরদাস্ত করা হবে না। আমি কথা দিচ্ছি, এবার তৃণমূল সরকারে আসলে তার তিন মাসে মধ্যে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পুরুলিয়ায় ট্রেনের সমস্যার সমাধান করব।”
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধেও ফের সরব হন তিনি। বলেন পুরুলিয়ায় জল, আবাস, একশ দিনের টাকা সহ সব প্রকল্পের টাকা বন্ধ। তা সত্ত্বেও এই জেলার ১ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে আরও ব্যবস্থা করা হবে। এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর হুঙ্কার “১২ বছরে এখানকার বিজেপি সাংসদের রাস্তায় একটা বাল্ব বা টিউব ওয়েল লাগানোর ক্ষমতা হয়নি, তাঁরা আমাদের শেখাবে কাজ কিভাবে করতে হবে?”
এদিনের সভা থেকে আসন্ন বিধানসভা ভোটে পুরুলিয়ার ৯টি আসনেই বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দেন তিনি । তৃণমূলকে ‘বাংলাদেশি’তকমা দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দিতে হবে। চতুর্থবারের জন্য তৃণমূল সরকার গঠনে পুরুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “কথা দিচ্ছি—পুরুলিয়ার সব আসনে তৃণমূল জিতলে ছয় মাসের মধ্যে সব দাবি পূরণের চেষ্টা করব।”
সভা শেষের আগে ভোটের সময় বিজেপি টাকা দিতে এলে কী করতে হবে, তাও ব্যাখ্যা করেন তিনি। মঞ্চ থেকে হাস্যরসের সুরে বলেন, “হাজার টাকা দিতে এলে দর কষাকষি করবেন—দশ হাজার চাইবেন। পদ্মফুল থেকে টাকা নিয়ে জোড়া ফুলে ভোট দিন, যাতে ভোট বাক্স খুললে ওদের চোখে সর্ষে ফুল ফোটে!”





