Header AD

‘জেলে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে হলে, প্রথমে সরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত’ শাহকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

‘‘অমিত শাহ (Amit Shah)বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যদি ক্ষমতায় আসেন ভাইপো রাজ্য চালাবেন। উনি নাম নিতে ভয় পান বোধহয়। আমি এই মঞ্চ থেকে চ্যালেঞ্জ করছি। আপনি বলেছেন, তৃণমূল পরিবারকেন্দ্রিক দল। আমি বলি, সংসদে বিল আনুন। এক পরিবার থেকে এক জনই রাজনীতি করবে। সেই বিলে ভোট দিয়ে আমি রাজনীতি ছাড়ব। আপনার ক্ষমতা থাকলে আপনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। আপনি যদি স্বচ্ছ হন, তা-হলে আপনি আগে ইস্তফাপত্র পাঠান। জেলে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে হলে, প্রথমে আপনারই পদত্যাগ করা উচিত।’’ ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানালেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

ধরনার চতুর্থ দিনে বক্তব্য রাখতে উঠে শাহকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা আমাদের বঞ্চিত করে রেখেছে, তাঁদের জবাব দেওয়ার এই ভোট। গতকাল আমি মন্দিরবাজার গিয়েছিলাম। আমার সভা ছিল। গত সপ্তাহে অমিত শাহ গিয়েছিলেন। ৩০ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি যতগুলো কথা বলেছিলেন, তার তথ্য ভুল। আমি সেটা পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরেছি। এনসিআরবি-র তথ্য দিয়েছি। মহিলাদের উপর অত্যাচার, নারী নির্যাতন, আদিবাসীদের উপর অত্যাচারে ‘গোল্ড মেডেল স্টেট’ ডবল ইঞ্জিন সরকার।’’

বিজেপির ষড়যন্ত্রের উল্লেখ করে তিনি গর্জে উঠে বলেন,‘এদের ষড়যন্ত্র আরও বৃহৎ’! তিনি দাবি করেন “গরিবের অ্যাকাউন্টে যে টাকা আছে, সেগুলো আত্মসাৎ করবে বিজেপি নেতারা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। পরবর্তীকালে যদি আপনার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপডেট করতে গেলে বলবে KYC জমা করো, ভোটার কার্ড দাও। ভোটার কার্ড দিতে না পারলে মোদী বাবু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে টাকাটা নিজেদের নামে নেবে। এটাই এঁদের ষড়যন্ত্র।’’

এরপরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) নিশানা করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘‘আমি জ্ঞানেশবাবুকে বলব,আপনি বলেছিলেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করব না। আমরা করিয়েছি। ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। ‘ম্যাপড’ কেসে মানে ২০০১ সালের ভোটার তালিকায় পরিবারের কারও কারও নামে নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা হয়, আপনি কোন অধিকারে ভোটাধিকার কাড়তে পারেন জবাব দিন। আমার একটাই প্রশ্ন, যাদের নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের নাম কোন অধিকারে কা়ড়বেন, সেই জবাব দিন।’’

একই সঙ্গে এসআইআর তালিকায় বিচারাধীন প্রসঙ্গে শাহকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আপনার জ্ঞানেশ কুমারকে বলুন না , কত জন ‘ঘুসপেটিয়া’ আছে? সংখ্যা প্রকাশ্যে আনুক। না-হলে প্রকাশ্যে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চান।’’

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপির স্লোগানকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘আপনি কী পাল্টাতে চান। আপনি বাংলার মানুষের খাবার পাল্টাতে চান, কৃষ্টি-সংস্কৃতি পাল্টাতে চান— এই বদল আনতে চান। আপনি চান ধর্মের নামে রাজ্যে হানাহানি হোক। একটা বাঙালি বেঁচে থাকতে বাংলায় এই পরিবর্তন করতে পারবেন না। আমাদের যতই ব্যঙ্গ করুন।মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন। দফায় দফায় আঘাত করেছেন, গণতান্ত্রিক ভাবে জবাব দিয়েছি বিজেপিকে। প্রথম দফায় আপনাদের হাত ভেঙেছিলাম। দ্বিতীয় দফায় পা ভেঙেছিলাম। তৃতীয় দফায় কোমর… এ বার এক দফায় ভোট করুন। সকাল থেকে রাতের মধ্যে রাজনৈতিক ভাবে মাজা, কোমর, শিরদাঁড়া সব ভেঙে মানুষ জবাব দেবে।” ভোট নিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গর্জে ওঠেন অভিষেক, “আপনি যত দফার ভোট করার করুন, সবে দফারফা করব।”

পাশাপাশি ধরনা মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রীর কাছে অভিষেকের আবেদন ‘‘আমি দিদিকে অনুরোধ করব… চার দিন হয়েছে। আপনি মানুষের স্বার্থে রাস্তায় থাকতে চান। কিন্তু বাংলার ১০ কোটি মানুষের স্বার্থে আপনার সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরি। ঝড়-জল-বৃষ্টির মধ্যে আপনি নিজের শরীরের উপর এই অত্যাচার আর করবেন না। তৃণমূলের ছাত্র-যুবরা তো রাস্তায় আছে। আমরা তো ময়দানে আছি। ১ লক্ষ বিএলএ-টু আছে। ৩৩০০ অঞ্চল সভাপতি আছে। ১ লক্ষ বুথ সভাপতি আছে। সাড়ে তিন হাজার ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট আছে। বুথে বুথে তৃণমূলের প্রহরী আছে। আমরা বুঝে নেব। আমরা শুধু ভোটের সময় রাজনীতি করতে আসি না।’’