Header AD

ইন্ডিগোর বিমান বিভ্রাট! বাতিল হোটেল বুকিং, অনিশ্চয়তার মুখে উত্তরবঙ্গ – সিকিমের পর্যটন শিল্প

ইন্ডিগোর বিমান বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিপাকে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন শিল্প। পর্যটকরা বাতিল করে দিচ্ছেন একের পর এক হোটেল, হোমস্টের বুকিং। দুর্ভোগের শিকার ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলো। সামনেই বড়দিন, তাহলে কি শীতকালীন পর্যটন মরশুম ও বড়দিনে পর্যটক শূন্য থাকবে পাহাড়! গত মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত দেশে ইন্ডিগোর ৬০০র বেশি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও যেকটি বিমান ওঠানামা করছে তাও ছাড়তে দেরি হচ্ছে। যার জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। গত ৬দিন থেকে ইন্ডিগোর এই বিমান বিভ্রাটের জেরে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের পর্যটন শিল্প। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ইন্ডিগোর ১২টি বিমান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওঠানামা করে। কলকাতা থেকে বাগডোগরা রুটে ৩টি, হায়দরাবাদ থেকে বাগডোগরা রুটে ২টি, দিল্লি থেকে বাগডোগরা রুটে ৩টি, বেঙ্গালুরু থেকে বাগডোগরা রুটে ১টি, মুম্বই থেকে বাগডোগরা রুটে ১টি, চেন্নাই থেকে বাগডোগরা রুটে ১টি এবং দুর্গাপুর থেকে বাগডোগরা রুটে ১টি বিমান ওঠানামা করে। ট্যুর অপারেটর সংস্থা সূত্রে খবর, বিমান বিভ্রাটের জেরে দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমে ১৫ শতাংশ ভিন রাজ্যের পর্যটকদের বুকিং বাতিলের কারণে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটিতে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে লোকসানের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলেই মনে করছেন ট্যুর অপারেটররা । কারণ, ইন্ডিগোর বিমানেই দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, এবং গুয়াহাটির ৮০ শতাংশ পর্যটক দার্জিলিং ও সিকিমে বেড়াতে আসেন। এছাড়াও উড়ানে বিলম্ব এবং বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হোটেল, ট্যুর অপারেটররাও। হিমালয়ান হসপিটালিটি এন্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের এক আধিকারিক জানান, “ইন্ডিগোর পরিস্থিতি দেখে বহু পর্যটক হোটেল, হোমস্টে বুকিং বাতিল করছেন। সিকিম পর্যটন, সেখানকার হোটেল ও হোমস্টেগুলো শীতকালীন মরশুমের দিকে তাকিয়ে থাকে। সিকিমে ১ হাজার ১৮১টি হোটেল, ১ হাজার ৯৮১টি হোমস্টে, ৬০০-র বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। এবার তুষারপাত শুরু হতে বুকিং ভালো ছিল। কিন্তু উড়ান বিভ্রাটের জেরে বাতিল হয়ে বুকিং তলানিতে পৌঁছেছে।“এই বিষয়ে দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় খান্না জানান, “ দার্জিলিং পাহাড়ে সাড়ে তিনশো হোটেল রয়েছে। কালিম্পংয়ে দুশো। প্রতিটি হোটেলেই বুকিং বাতিল হচ্ছে। পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক।“ আসলে ভিন রাজ্যের পর্যটকরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সেই কারণে যে হারে বুকিং বাতিল হচ্ছে পর্যটন শিল্পে তার প্রভাব পড়েছে।