দ্বিতীয় দিনেও মিটল না সমস্যা। দেশজুড়ে ইন্ডিগোর বিমান বিভ্রাট অব্যাহত। চূড়ান্ত যাত্রী দুর্ভোগ। বিমানবন্দরে আটকে হাজার হাজার যাত্রী। পাইলটের অভাবেই পরিষেবা বিভ্রাটে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা। বহু বিমান বাতিল করা হয়েছে। চেন্নাইয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব উড়ান বন্ধ। কলকাতায় শুক্রবার ২৬টি বিমান বাতিল করেছে সংস্থা। দিল্লিতে পুরো বন্ধ রয়েছে পরিষেবা। অনেক যাত্রীর অভিযোগ বিমান বন্দরে পৌঁছে তাঁরা বিমান বাতিলের কথা জানতে পেরেছেন। যে বিমানগুলি চলছে তাও সঠিক সময়ে নয়। এই পরিস্থিতিতে পূর্বের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করেছে দেশের বিমান নিয়ামক সংস্থা ডাইরেক্টর জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন বা ডিজিসিএ। অবিলম্বে পাইলট নিয়োগের পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ। তবে আগামী ২-৩ দিনও এই সমস্যা চলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিমান সংস্থাটি। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার বার্তা কেন্দ্রের।
বৃহস্পতিবার সারা দিনে ৪০০র বেশি বিমান বাতিল করেছিল ইন্ডিগো। চলতি অব্যবস্থার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রীদের কাছে আরও একবার ক্ষমা চেয়েছে বিমান সংস্থা। সারা দিনে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সার্বিক অব্যবস্থাই লক্ষ করা গিয়েছে। ইন্ডিগোর যাত্রীদের অভিযোগ, যথাযথ খাবার এবং আশ্রয় ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু ঠিক কোন সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যের বিমান ছাড়বে, তা বিমানসংস্থার তরফে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ইন্ডিগো বহু আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করে। শুধু দিল্লি বিমানবন্দরেই ১৭২টি বিমান বাতিল করা হয়। মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতে সংখ্যাটা যথাক্রমে ১০০ এবং ৭৫। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ যাবতীয় অব্যবস্থার জন্য ক্ষমা চায়। ওই পোস্টে এ-ও জানানো হয়,পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য ইন্ডিগো ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করছে।
ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসরে নেমেছে দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা। বিমানমমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্ত্রকের আধিকারিক এবং ইন্ডিগো কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ইন্ডিগোর তরফে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে যে, তাদের পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক।
পরিষেবার উপর ‘নেতিবাচক প্রভাব’ পড়ার জন্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শীতকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমান ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান যানজট এবং বিমানকর্মীদের কাজের সংশোধিত সময়সূচিকে দায়ী করেছে ইন্ডিগো। তবে ইন্ডিগো সূত্রে খবর, নতুন ডিউটি আওয়ার নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকেই সংস্থার কর্মীসংখ্যায় টান পড়ছে। তার উপর যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গেলে সেই বাড়তি চাপও নিতে হচ্ছে কর্তব্যরত কর্মীদের। সে কারণেই, পাইলট এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক কেবিন ক্রু না থাকায় অনেক উড়ান বাতিল করতে হচ্ছে। কখনও আবার বদলাতে হচ্ছে উড়ানের সময়সূচি।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের একাংশ ইন্ডিগোর বিমানের টিকিট বাতিল করে অন্য বিমানসংস্থার শরণাপন্ন হচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে অন্য সংস্থাগুলি টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।





