বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ইস্যু ঘিরে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)–এর মধ্যে সংঘাত ক্রমেই চরমে উঠছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। রাজধানী দিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তরে গিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘সার’-এর আড়ালে কার্যত বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষনার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, একটি টেলিভিশন চ্যালেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার এখনও বহু দেরি, অথচ ছ’মাস আগে থেকেই রাজ্য প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভোট ঘোষণার এত আগে কখনও কোনও রাজ্যে এভাবে প্রশাসনে হস্তক্ষেপের নজির আছে কি না। সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোট ঘোষনার অনেক আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল কমিশন। বিশেষজ্ঞদের মতে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর তোলা প্রশ্নকেই আরও জোরাল করছে।
এর আগেও এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন মৃত্যুমিছিল ও কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকায় জীবিতদের ‘মৃত’ ভোটার হিসাবে নাম থাকা নিয়ে দিল্লিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পাশাপাশি, ‘সার’ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং নিজেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সওয়াল করেন তিনি।
তবে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যত চালু হয়েছে—এই অভিযোগ এবারই প্রথম সরাসরি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে এবং অন্য রাজ্যের SIR- এর দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বিধাননগর-সহ একাধিক কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারদেরও ভিন রাজ্যে পাঠানোর চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা বাইরে গেলে আইনশৃঙ্খলা সামলাবে কে?
তিনি আরও দাবি করেন, জেলা শাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিবদেরও দিল্লি থেকে তলব করা হচ্ছে। এমনকি বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে কয়েকজন আইএএস (IAS) অফিসারকে বাংলায় পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ভিন রাজ্যের এই অফিসাররা ‘সার’ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন।
নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে বাংলার প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ভোটের আগেই বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রসঙ্গ টেনে আনেন হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং বিহারের নির্বাচনের ফলাফলও। তাঁর দাবি, ওই রাজ্যগুলিতে বিরোধীরা হারেনি, বরং ‘হারানো হয়েছে’।
সব মিলিয়ে, ‘সার’ ইস্যু ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার এই টানাপোড়েন আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




