কোনও মূল্যবান চুরির সামগ্রী হাতানোর উদ্দেশ্যেই রাহুল লালকে দুই আততায়ী খুন করে পালায়। পার্ক স্ট্রিটের রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের হোটেলে যুবক খুনের তদন্তে নেমে এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। এমনকী, এই খুনের পিছনে আন্তঃরাজ্যের কোনও অ্যান্টিক চক্রও থাকতে পারে বলে মনে করছে তারা। গত শুক্রবার পার্ক স্ট্রিটের রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের একটি হোটেলের ৩০২ নম্বর রুমের বিছানায় বক্স খাটের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় রাহুল লাল নামে এক যুবকের দেহ। তাঁকে বিছানার চাদর দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে পুলিশের সন্দেহ। জানা গিয়েছে, আগেও চুরি ও প্রতারণার ঘটনায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন রাহুল লাল নামে ওই যুবক। চুরির সামগ্রী তিনি ভিনরাজ্যের চোরাই চক্রের কাছেও বিক্রি করতেন। এমনকী, অ্যান্টিক জিনিস চুরি করেও ভিনরাজ্যে পাচার করতেন, এমনই তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে।
এভাবে অ্যান্টিক চক্র ও চোরাই চক্রের কাছে সামগ্রী বিক্রি করে মোটা টাকা লাভ করতেন ওই ব্যক্তি বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের মতে, সম্প্রতি কোনও মূল্যবাণ চোরাই বস্তু বা অ্যান্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করেছিলেন রাহুল। সেই বস্তু ভিনরাজ্যে বিক্রির জন্য যোগাযোগ করেন ওড়িশার চোরাই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে। ওই সামগ্রীগুলি পাচার করার উদ্দেশ্য নিয়েই সেগুলি দেখানোর জন্য হোটেলের ঘর ভাড়া করা হয়। যখন ওই দু’জনকে ডেকে নিয়ে হোটেলের ঘরে রাহুল ঢোকেন, তখন তাঁর সঙ্গে মূল্যবান সামগ্রী ছিল বলেই আন্দাজ করছে পুলিশ। এরপর তিনজনে মিলে মদ্যপান করেন। পুলিশের ধারণা, একজন টাকা আনার নাম করে হোটেলের বাইরে যায়। ওই চোরাই বা অ্যান্টিক সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের আসল ‘টার্গেট। তার জন্য তারা রাহুলকে খুন করার ছক কষে।
পুলিশের মতে, বিছানার চাদর বা কোনও বস্তু দিয়ে একজনই পিছন থেকে শ্বাসরোধ করে রাহুলকে খুন করে। এর পর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ সে ডেকে নেয়। দু’জন মিলে রাহুলের দেহটি বক্স খাটের ভিতর বন্ধ করে দেয়। এর পর খুনিরা রাহুলের কাছ থেকে ওই মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়। পরের দিন ভোরে বাস বা ট্রেনে চেপে ওড়িশায় পালিয়ে যায় খুনিরা। আসল মূল্যবান সামগ্রীটি কী ছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





