ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আইপ্যাক মামলার শুনানি। আইপ্যাক মামলার (I-pack) জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ইতিপূর্বে এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নেওয়ায় মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে সকলের নজর ছিল। আজ, মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) , রাজ্য, ডিজি, সিপি-র তরফ থেকে জমা দেওয়া হলফনামার জবাব দেওয়ার কথা ছিল ইডির। কিন্তু সেই মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। জানা গিয়েছে, রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলের অসুস্থতার কারণে আজ মামলা স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়। তখন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রস্তাব দেন, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি করা হোক। সেইমতো পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চ।
এর আগেও ২ ফেব্রুয়ারি আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। সেই হলফনামা দিয়ে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করে রাজ্য। রাজ্য সেখানে দাবি করে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার অধিকারই নেই ইডির। ২০২০ সালে কয়লার তদন্তের জন্য এফআইআর দায়ের হয়। আর ২০২৬ পর্যন্ত তদন্তে কী উঠে এসেছে তা দেখানোর মতো কোনও নথি নেই। ইডি নিজেই অযৌক্তিক ও অজানা কারণে বিলম্ব করেছে। এই হলফনামায় রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ইডির তল্লাশিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওরকম বাধা দেননি। তিনি সম্পূর্ণ অনুমতি নিয়েই পার্টি সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
এরমধ্যে আই প্যাক মামলায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৎকালীন নগরপাল মনোজ ভার্মা। লাউডন স্ট্রিটে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ওইদিন তাঁর ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক প্রোটোকল এবং নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। মনোজ ভার্মার পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে মূল কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, ওইদিন লাউডন স্ট্রিটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল। পুলিসের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল কোনও ধরণের নিরাপত্তা ত্রুটি বা হুমকি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।
প্রসঙ্গত,এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৮ জানুয়ারি। ওইদিন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কলকাতার দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেই সেখান থেকে কিছু ফাইল নিয়ে আসেন। সেদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওইসব তাঁর দলের নথিপত্র। তাতে নির্বাচনী রণকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। সেসব ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র করেছে ইডি, এই অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের স্বার্থে তিনি সেসব ফাইল সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর এই পদক্ষেপেই ইডির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়।কয়লা পাচার মামলায় ওই তল্লাশি চালায় বলেই দাবি করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁরা পাল্টা অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন। তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর বিরোধিতা করেই সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হয়।





