Header AD
Trending

প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাইল ইরান, তবে আত্মসমর্পণ নয়: ট্রাম্পকে কড়া বার্তা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাইল ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ( Masoud Pezeshkian) জানিয়েছেন, যদি কোনও প্রতিবেশী দেশ থেকে ইরানের উপর হামলা না হয়, তাহলে ইরানও আর তাদের উপর আক্রমণ চালাবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকার কাছে ইরান কোনওভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Ali Khamenei) নিহত হওয়ার পর তেহরানে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান-সহ তিন সদস্যের এই পরিষদই আপাতত দেশের শাসনভার সামলাচ্ছে। এই পরিষদই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ইরান অকারণে আর কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল। এর জেরে বহু দেশ তেহরানের সমালোচনা করে জানায়, ইরান অযথা শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে সংঘাতে জড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও ইরানের দাবি ছিল, এই সংঘাতের সূত্রপাত করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতেই প্রতিবেশীদের প্রতি সুর নরম করেছে তেহরান। পেজেশকিয়ান জানান, সামরিক বাহিনীর মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড (Donald Trump) সম্প্রতি ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি তুলেছিলেন। তার জবাবে পেজেশকিয়ান কড়া ভাষায় বলেন, “এটা ট্রাম্পের স্বপ্ন মাত্র, আর এই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে একদিন সমাধিস্থ হতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন কমালেও আমেরিকা বা ইজরায়েলের কাছে মাথা নত করতে রাজি নয় ইরান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর নতুন নেতা কে হবেন, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য নাম হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর ছেলে  মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)-র নাম। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করেনি তেহরান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালালেও পরে ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান এবং জর্ডনের বিভিন্ন এলাকায় হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। এর পরই সৌদি আরব পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বে অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছে ইরান। বেশিরভাগ আরব দেশ চায় না যে ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত তাদের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ুক। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণেও তারা সরাসরি ইরানকে সমর্থন করতে চাইছে না।

আরও একটি বড় কারণ হলো শিয়া-সুন্নি বিভাজন। ইরান মূলত শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও অধিকাংশ আরব রাষ্ট্র সুন্নি প্রধান। এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজনও ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলির দূরত্ব বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কারণেই বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বকে পাশে পেতে কূটনৈতিকভাবে সুর নরম করার পথ বেছে নিয়েছে তেহরান।