The city of lights বা আলোর শহর চন্দননগর। সেখানকার জগদ্ধাত্রী পুজো, আলোকসজ্জা, মণ্ডপে থিমের বৈচিত্র্য একেবারে নজরকাড়ার মতো। গত কয়েক বছর ধরে জগদ্ধাত্রীর অঙ্গসজ্জায় শোলার সাজেও এখন দেখা যাচ্ছে থিমের ছোঁয়া। প্রতিমার চালচিত্রে শোলার সাজে রামায়ণ, মহাভারতের মতো পৌরাণিক কাহিনি থেকে বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণ, বাংলার স্থাপত্য, বিষ্ণুপুরের ডোকরা, টেরাকোটা, বৃক্ষরোপণের মতো হরেক থিমের বাহার দেখা যায়।
আগামী সোমবার ষষ্ঠী। তাই হৈমন্তীর আগমনকে কেন্দ্র করে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা চন্দননগরে। বর্ধমান জেলার কাটোয়া এলাকার বনকাপাসি থেকে আসা শিল্পীরা দিনরাত এক করে নতুন নতুন শিল্পকলা ফুটিয়ে তুলছেন। এক পুজো উদ্যোক্তার কথায়, বছর তিন-চার ধরে এই শিল্পকলায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে চন্দননগরে। পুজোর কয়েকটা জেলা থেকে রাজ্য, দেশ-বিদেশ থেকেও পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ে একদা এই ফ্রেঞ্চ কলোনিতে। এছাড়াও এখানকার প্রতিমা নিরঞ্জনের আলো ঝলমলে শোভাযাত্রা তো রয়েইছে। কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির অধীনে ভদ্রেশ্বর, মানকুণডু, চন্দননগর মিলিয়ে কমবেশি ১৮০টি পুজো হয় এখানে । সব বারোয়ারিতেই ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে । পাশাপাশি বিগত কয়েক বছর ধরেই শোলার সাজেও এসেছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। এছাড়াও বর্ধমানের শিল্পীদের নৈপুণ্যে মায়ের অঙ্গসজ্জাতেও লেগেছে থিমের বৈচিত্র্য ।
১২ মাসের উৎসব তুলে ধরা হচ্ছে কুণ্ডুঘাট দালানের অঙ্গসজ্জায়। মধ্যাঞ্চল বারোয়ারিতে এবার প্রতিমার অঙ্গসজ্জায় থাকছে বিষ্ণুর দশ অবতার। হরিদ্রাডাঙায় এবার থিম হচ্ছে পুরাণের উপর। পাদ্রিপাড়ার থিম এবার বাংলার স্থাপত্য, বিষ্ণুপুরের ডোকরাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। উর্দিবাজারের প্রতিমার অঙ্গসজ্জায় টেরাকোটা। বোরোকালীতলায় রামায়ণ, খলিসানি বারোয়ারিতে সবুজায়ন।
চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ এই বিষয়ে জানান, বিগত ৪ বছর থেকে মায়ের অঙ্গসজ্জায় শোলার সাজে থিম বৈচিত্র্যর প্রভাব বেশি করে বাড়তে শুরু করেছে। কখনও রামায়ণ, মহাভারত, কখনও আবার পুরাণের বিভিন্ন কাহিনি, আরও অনেক থিম হচ্ছে। তাতে মায়ের রূপ যেন আরও খুলছে। ২০২১ সালে করোনার জন্য শোভাযাত্রা হয়নি, তখন থেকেই মায়ের অঙ্গসজ্জায় থিম-বৈচিত্র্যর কাজে পুজো কমিটিগুলো খরচ বাড়াতে শুরু করে। এরপর থেকেই দেখা যায় এই শিল্পকলার প্রতি বহু মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। বর্ধমানের বনকাপাসি থেকে শোলা শিল্পীদের দল এসেছে চনন্দনগরে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম শিল্পী আকাশ পাল এবার প্রায় ২০টি প্রতিমার অঙ্গসজ্জার কাজ করছেন। আকাশ পালের কথায়, ‘‘প্রথাগত সাজের পাশাপাশি অঙ্গসজ্জায় থিমের কাজও বেড়ে চলেছে। আমাদের ওই গ্রাম থেকে অনেক শিল্পীই আসে এখানে কাজ করতে। দিনে দিনে এখানে চাহিদা বাড়ছে শোলার থিমের ।”





