“ভুটানের জলে এত বড় ক্ষতি হয়েছে। ওদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।” সোমবার জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে রিভার কমিশনের দাবি জানিয়ে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি। গত সপ্তাহের পর রবিবার আবার দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিপর্যস্ত এলাকা নাগরাকাটা নাগরাকাটায় ত্রাণ বিলি করেছেন তিনি। সেখান থেকেই দুর্যোগে মৃতদের পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে স্পেশাল হোমগার্ড পদে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবার পিছু দেওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা।
রবিবার আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর সোমবার সকালে রওনা দেন নাগরাকাটার উদ্দেশে। প্রথমেই বামনডাঙায় যান মমতা। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আমরা অনেক দিন ধরে বলছি ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গড়া হোক এবং তার সদস্য করা হোক বাংলাকে। ভুটানের জলেই এত বড় ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই ওরা ক্ষতিপূরণ দিক।’’ এর পরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ‘‘সবটাই তো আমাদের করতে হয়। দিল্লি এক পয়সাও দেয় না।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ”অনেকদিন ধরে রিভার কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছি। কেন্দ্র গুরুত্ব দেয়নি। ১৬ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বৈঠক আছে। আমি আমাদের প্রতিনিধি পাঠাব।” সেখানে আবারও ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনের দাবি তোলা হবে বলেও এদিন জানান প্রশাসনিক প্রধান। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের পরেই ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে দুষে শাসকদল দাবি করে জানায়, উত্তরবঙ্গে এতটা ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো যেত, যায়নি স্রেফ কেন্দ্রের উদাসনীতায়। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের তরফে বলা সত্ত্বেও ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন তৈরি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।
এমনকী উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেই ভুটানকে দায়ী করে তোপ দাগেন প্রশাসনিক প্রধান। এমনকী উত্তরের বন্যাকে ‘ম্যান মেড’ বলেও দাবি করেন। আগেই তিনি জানান, ”ভুটান, সিকিমের জলে নাগরাকাটা, ধূপগুড়ির ভয়ংকর অবস্থা। ম্যান মেড বন্যায় এতগুলো প্রাণ গেল।” এমনকী ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন নিয়েও সরব হয়েছিলেন। এদিন ফের একবার উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির জন্য ভুটানকে দায়ী করে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী।





