রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন বাংলার বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। সেই চিঠিতে তিনি বাংলার প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ও আবেগের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ শুধু কর্মক্ষেত্র নয়—এটি তাঁর “দ্বিতীয় ঘর”। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ—আমার দ্বিতীয় ঘর—এর সঙ্গে আমি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকব এবং থাকতেই চাই।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা চিঠির শুরুতেই তিনি বাংলার মানুষকে ভাই ও বোন বলে সম্বোধন করেন। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন, স্নেহ এবং সম্মানের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, বাংলার মানুষের ভালোবাসা তাঁর কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় বঙ্গবাসী ভাই ও বোনেরা, লোক ভবন, কলকাতায় আমার দায়িত্বের অধ্যায় শেষের পথে এসে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে আমি আবারও আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই—আপনারা যে সমর্থন, স্নেহ ও সম্মান আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
আমাদের প্রিয় এই রাজ্যের স্নেহময় ও সহৃদয় মানুষের সান্নিধ্যে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি আজও সযত্নে স্মরণ করি। আমি মনে করি সেই বোনের আলিঙ্গন, সেই ছোট্ট ছেলেটির পিঠে আলতো চাপড়, সেই তরুণের দৃঢ় করমর্দন, আর দূর থেকে উঁচু করে ওঠা সেই হাতের শক্তিশালী বার্তা।’
এদিনের চিঠিতে তিনি গান্ধিজিকে স্মরণ করে উল্লেখ করেন, বহু বছর আগে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন—’আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না।আজ আমি সেই একই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছি। এই পবিত্র মাটির এমন এক আকর্ষণ রয়েছে, যা বিদ্যুতের মতো হৃদয়কে টেনে নেয়।’
রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় রাজ্যের নানা প্রান্তে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ‘গত তিন বছরে আমি এই রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছি। আমি গ্রামবাসীদের খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে বসে তাঁদের সঙ্গে আহার করেছি; তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করেছি; জ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।’
চিঠিতে তিনি বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরবের কথাও স্মরণ করেন। তাঁর মতে, এই মাটিতে যুগে যুগে বহু মহান মনীষীর জন্ম হয়েছে, যারা সমগ্র দেশকে পথ দেখিয়েছেন। তাই তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, পশ্চিমবঙ্গ ভবিষ্যতেও আরও উঁচুতে পৌঁছবে। চিঠির শেষে তিনি বাংলার মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে লেখেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—পশ্চিমবঙ্গের আমার ভাই ও বোনেরা আগামী দিনে আরও মহান উচ্চতায় পৌঁছবেন। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পথচলায় বিনম্রভাবে অবদান রেখে যাব।
আগামী দিনে বঙ্গভূমি আরও গৌরবের শিখরে পৌঁছাক—এই আমার আন্তরিক প্রার্থনা। সকলের জীবনে আসুক সমৃদ্ধি, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য।’




