বৃহস্পতিবার দুপুরেই লোকসভায় পেশ করা হয় ‘জি রাম জি’ বিলটি। তার জেরে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। লোকসভার পর বিরোধীদের তুমুল আপত্তি উড়িয়ে মাঝরাত পর্যন্ত চলা আলোচনা পর্বের শেষে রাজ্যসভাতেও সবুজ সংকেত পেয়ে পাশ হয়ে যায় নতুন বিলটি। তারপরই এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে বিরোধী সাংসদরা। দিল্লিতে জাঁকিয়ে পড়া ঠান্ডার মধ্যেই ‘জি রাম জি’ বিলের বিরোধিতায় পুরোনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে সারারাত ধর্না দিলেন তৃণমূলের সাংসদরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ অন্যান্য সাংসদরাও। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে সেই ধর্না। সাংসদদের কথা অনুযায়ী, ১০০ দিনের প্রকল্প থেকে মনরেগা বা মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে কৌশলে ‘রামনাম’ ঢোকানো হয়েছে। তারই প্রতিবাদে লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে রাত জাগলেন তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ-সহ একাধিক সাংসদ। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও টাঙিয়ে রেখেছিলেন তাঁরা। দিল্লিতে এখন বেশ ঠান্ডা । তাই সকলের জন্য পর্যাপ্ত গরম পোশাকের বন্দোবস্তও করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সদনে ‘দ্য বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন, ভিবি-জি রাম জি বিল ২০২৫’ পাশের জবাবি ভাষণ দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং। তখনই বিরোধী সাংসদরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। গান্ধীজির গ্রাম স্বরাজের ছবি হাতে তাঁরা নেমে আসেন ওয়ালে। তাঁরা স্লোগান তোলেন, ‘উই ওয়ান্ট নারেগা! রামজি বিল ওয়াপস লো! মোদি সরকার হায় হায়!’ বিলের প্রতিলিপি ছিঁড়ে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। দিল্লির সাংসদ ভবনের মধ্যে চলে প্রবল হট্টগোল। তার মধ্যেই মাঝরাত পর্যন্ত চলা অধিবেশনে রাজ্যসভায় বিপুল ভোটে বিলটি পাশ হতেই সংসদ ভবন ওয়াকআউট করে ধর্নায় বসে পড়েন বিরোধী সাংসদরা।
এর প্রতিবাদে সংসদের সামনে তৃণমূল সাংসদেরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দীর্ঘ ক্ষণ ধর্নায় বসে থাকেন। কোনও প্ল্যাকার্ডে বড় বড় করে লেখা ছিল, ‘মনরেগার হত্যা’। কোনও প্ল্যাকার্ডে ইংরেজিতে লেখা ছিল, “গান্ধীকে যে ভাবে মেরেছিলে, সে ভাবে মনরেগাকে হত্যা করো না”। ধর্নার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে দাবি করেছেন সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। নাম বদলের ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেন , “অগণতান্ত্রিকভাবে MGNREGA-বিল পরিবর্তন করে পাশ করিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কোনও প্রকারের স্ক্রুটিনি ছাড়াই যেভাবে MGNREGA থেকে আমাদের জাতির জনকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এটা শুধুই মহাত্মা গান্ধীজির অপমান নয়, ‘মহাত্মা’ উপাধি দেওয়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও অপমান। এই কালা কানুন প্রত্যাহারের দাবিতেই আমরা ধরনায় বসেছি।” এদিন এই প্রতিবাদী ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেন,” MGNREGA থেকে গান্ধীজির নাম মুছে ফেলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস মনীষীদের সম্মান করতে জানে। বাংলায় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে গান্ধীজির নামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটাই আমাদের আদর্শগত পার্থক্য।”
প্রসঙ্গত, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলের জন্য মঙ্গলবার সংসদে বিল পেশ করেন শিবরাজ চৌহান। মনরেগা (MGNREGA) -এর নাম পরিবর্তন করে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন করার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিলে। প্রস্তাবিত বিলে ১০০ দিনের কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে।





