Header AD

‘ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার ব্যবস্থা করুন ‘মুখ্যমন্ত্রী – অভিষেককে ধন্যবাদ জানিয়ে কাতর আর্জি সোনালির

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে দেশে ফেরানো হবে সোনালি খাতুনকে। বাংলাদেশের আদালতও জামিন দিয়েছে। যদিও ভারত সরকারের তরফে তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। এদিনই প্রতি মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকার জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান তিনি। সোনালি খাতুনের আর্জি, “আমি গর্ভবতী। আমাকে তাড়াতাড়ি দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুন। আমরা কী অপরাধ করেছি যে, আমাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। ভারত সরকারকে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, তাড়াতাড়ি আমাদের দেশে ফেরান। আমি ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা।” এর পাশাপাশি সোনালি খাতুন ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলামকেও। এদিকে বুধবার মালদহের জনসভা থেকে সোনালি খাতুন প্রসঙ্গে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফের গর্জে ওঠেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তোলেন, “সোনালি কি বাংলাদেশি ছিল? তাঁর ইন্ডিয়ান সব কিছু থাকা সত্ত্বেও তুমি একজন অন্ত্বঃসত্ত্বা মহিলাকে বিএসএফকে দিয়ে পুশ ব্যাক করিয়েছ। সুপ্রিম কোর্ট ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছে। আমরা কোর্টে কেস করে অর্ডার করিয়েছি।”

বর্তমানে বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জে সোনালি বিবিদের সঙ্গে রয়েছেন বীরভূমের যুবক মফিজুল শেখ।
জানা গিয়েছে, আপাতত, নবাবগঞ্জের ফারুক আলির বাড়িতে তাঁরা আছেন। পুরো বিষয়টি পর্যবক্ষণ করছেন জুডিশিয়াল কোর্টের অ্যাডভোকেট শরিফ এনায়েতুল্লাহ এবং স্থানীয় ব্যক্তি মিনাজ ইসলাম। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সোনালি বিবির কাতর আবেদন, “যত দ্রুত সম্ভব ভারতে ফেরানো হোক। আমার সন্তান যেন ভারতেই জন্মগ্রহণ করে।”

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভারতে নিয়ে আসার পরে সোনালি এবং তাঁর সন্তানকে বীরভূমের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে স্থানীয় মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সোনালির যাবতীয় চিকিৎসায় সাহায্য করবেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে যাবতীয় নথিপত্র যাচাই করে তা আদালতে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

জানা গিয়েছে, সোমবার চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালত সোনালি বিবিদের জামিন দেওয়ার পর রাতে বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। কিন্তু, আটক বা গ্রেপ্তার করতে নয়। বিষয়টি নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সোমবার রাতে বাড়িতে খাওয়াদাওয়ার পর রাতে থানায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি ফিরে আসেন। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট সোনালিদের দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের আদালতও জামিন দিয়েছে। এরপরেও ভারত সরকারের তরফে তাঁদের সঙ্গে এখনও কোনও যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ।