Header AD

দিল্লিতে ইতিহাস গড়ে আইনজীবীর ভূমিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার পক্ষে সওয়াল

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার । সাধারণ মানুষের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সওয়াল করলেন কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটল বুধবার দেশের শীর্ষ আদালতে। এসআইআর মামলায় আইনজীবীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিজের করা মামলায় সওইয়াল করলেন নিজেই। প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের আবেদন, “দয়া করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন, মানুষের অধিকার রক্ষা করুন।” প্রসঙ্গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে SIR সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলার শুনানি ছিল। তারই একটিতে বাংলার সাধারণ মানুষের হয়ে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।

এদিনের শুনানির শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতিদের কাছে ৫ মিনিট বলার অনুমতি চেয়ে নেন । প্রধান বিচারপতি বললেন, “৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই।” একই সঙ্গে মমতা বলেন, “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। কোথাও বিচার পাচ্ছি না। দয়া করে আমাকে বলতে দিন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, গোটা পরিস্থিতি বলতে পারি।এসআইআর-এর নামে কী চলছে, বলার জন্য পাঁচ মিনিট সময় চাই। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ছ’বার চিঠি দিয়েছি। কোনও উত্তর পাইনি। কোনও বিচার পাইনি। বিয়ের পর পদবি পরিবর্তনের জন্যেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই লড়াই দলের জন্য নয়, রাজ্যের জন্য।”

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, নিশ্চয়ই চান না? যাঁরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে গেলেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকুক, নিশ্চয়ই চান না?’ এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ জানান, “ইআরও-দের কোনও ক্ষমতা নেই। রোল পর্যবেক্ষক বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজারভার নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরাই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছেন। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছেন। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন। এআই দিয়ে নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে। ইলেকশন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দিচ্ছে।অসমে কেন এসআইআর হচ্ছে না? হঠাৎ ভোটের আগে ২৪ বছর পর কেন বাংলায় এসআইআর হচ্ছে? আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে। ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন! বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে।’ প্রধান বিচারপতির কাছে তিনি আবেদন জানান, “আমার শেষ আবেদন, মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রত্যাহার করুন। গণতন্ত্রকে বাঁচান।”

প্রসঙ্গত, এদিন সকাল দশটা পাঁচ মিনিট নাগাদ বিচারপতিদের প্রবেশ করার রাস্তা দিয়ে শীর্ষ আদালতে (Supreme Court)পৌঁছে যায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। শুনানি শুরুর বেশ খানিকটা আগে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। শুনানির শুরুতে এজলাসে প্রথমসারিতে আইনজীবীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মমতা। তবে তার আগে তিনি শীর্ষ আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। নয়া মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, অবিলম্বে ভোটারদের নাম বাতিলের প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা হোক। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepency)অর্থাৎ স্রেফ নামের বানানের জন্য যাঁদের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, সেসব নোটিস তুলে নেওয়া হোক। আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এখনও ৬০ লক্ষ শুনানি বাকি। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তাই অযথা নামের বানান সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো হোক। এছাড়া তৃণমূল সুপ্রিমোর আরও আবেদন, যে সব ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব মাইক্রো অবজারভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হোক বলেও আবেদন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি এদিন এসআইআর নিয়ে করা ডেরেক ও ব্রায়ান এবং দোলা সেনের করা মামলারও শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে।

মুখ্যমন্ত্রীর মামলায় নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকার যেন বাংলা ভাষা বোঝে, এমন অফিসারদের তালিকা দেয়। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, নির্বাচন কমিশন যেন নামের ছোট ভুলে কাউকে বাদ না-দেয়। শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় কমিশনকে আরও সতর্ক হতে হবে। একইসঙ্গে এই মামলার সোমবার আবার শুনানি হবে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।