শুক্রবারই ধরনা মঞ্চে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বাদ পড়া ‘বৈধ’ ভোটারদের তিনি সামনে আনবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই শনিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে বিষয়টি সামনে আনলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। মমতার দাবি, বিজেপি পক্ষপাতদুষ্ট কমিশনকে (Election Commission Of India) ব্যবহার করে এই কাজ করাচ্ছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “নটি-ন্যাস্টি বিজেপি কমিশনকে দিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে উধাও করাচ্ছে।” পাশাপাশি মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “চিন্তা করবেন না আমি আপনাদের পাশে আছি।”

এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এদের মধ্যে অনেকেই বৈধ ভোটার, অথচ তাঁদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ধরনা মঞ্চে এমন ৪৩ টি পরিবারের ভোটারদের সামনে এনে মমতা বলেন, “সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি আর কমিশন মিলেই এদের নাম ভ্যানিশ করেছে। আপনারা নিজেদের কাগজপত্র দেখান।” এরপরই কমিশনকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, “এভাবে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” এরপরই তিনি গর্জে উঠে বলেন, “এরা নাগরিক অধিকার লুঠ করছে দেখুন। এই লুঠের কোনও ক্ষমা আছে?” একই সঙ্গে তিনি গর্জে উঠে বলেন, “এই নোংরা খেলা খেললে মনে রাখবেন দিল্লি কিন্তু দুর নয়। যাদের নাম বাদ দিয়েছেন ঢোকান। বাংলা কেন টার্গেট করা হচ্ছে? এদের বিচার দিন। ১৩ টা ডকুমেন্ট দেখাতে বলেনি। একটা থাকলেই হবে। আধার থাকলেই হবে। মানুষ ঘণ্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আধার বানিয়েছে। কে করেছে আধার? কেন্দ্র। সব থাকা সত্বেও এরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভয় পায়। অন্যায় কে করল? সব নথি থাকা সত্বেও ভ্যানিশ করেছে ভোট। ওরা চায় শুধু বিজেপির ভোটার থাকুক। আমরা চাই কোমোনাররাও থাকুক।”

তাঁর আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডের সঙ্গে সংযোগের কথা বলেছিল, কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। অথচ এখন বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতার কথায়, “এগুলো শুধু কয়েকটি উদাহরণ। এরকম আরও অনেক ভোটার আছেন যাদের নাম বাদ পড়েছে। বিজেপির নির্দেশেই কমিশন এই কাজ করছে। বিজেপিকে স্যাটিসফাই করতে চাইছ শুধু?”
জনতার দরবারে বিচার চেয়ে তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সামনে প্রমাণপত্র নিয়ে এসেছি। সবাই আধার কার্ডধারী। তাহলে কেন বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে? গণতন্ত্র যদি ভোটারদের নিয়েই হয়, তাহলে এই অন্যায় কেন? এর জবাব দেশবাসীকে দিতে হবে।” এরপরই তিনি দাবি করেন, “সব কিছু দেখিয়েও যখন নাম ওঠেনি, বিচার হয়নি, তাই বিচারের দাবিতে ওরা এবার জনতার দরবারে এসেছেন। ওদের বিচারের দাবিতেই আমাদের এই প্রতিবাদ আন্দোলন।”
এরপর বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা অভিযোগ করেন, নোটবন্দির পর এবার ‘ভোটবন্দি’ করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রের শাসকদল। তাঁর মতে, বিজেপি শুধু ভোট নয়, সংবিধান ও গণতন্ত্রকেও বন্দি করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলায় ভোট জেতার চেষ্টা করছে বিজেপি। তবে তৃণমূল নেত্রীর হুঁশিয়ারি, “এভাবে কিছুই হবে না। বাংলার মানুষই এর উপযুক্ত জবাব দেবে। যাদের ভোট নেই তারা তোমাদের রুখে দাঁড়াবে। আর অন্যরা সাথ দেবে। ”




