Header AD

পরিকল্পনাহীন এসআইআর স্থগিত করুন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আবার সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন ভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এটা বিপজ্জনকও। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের দুই বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) মৃত্যু এবং অসুস্থতার খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, এসআইআরের কাজের চাপেই পরপর এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে বিএলও-দের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এসআইআর  প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিতের দাবিও তোলেন।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের কোনও না কোনও প্রান্তে  আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে আগে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন তিনি। বিএলওদের দুর্দশা এবং অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠান চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এহেন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়। ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকবে। সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবেন। চিঠিতে তিনি আরও লিখছেন, বাংলায় এসআইআর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। যেভাবে আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা  বিপজ্জনক।  বিএলওদের যে সবথেকে বেশি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে তাও চিঠিতে তুলে ধরেন প্রশাসনিক প্রধান। শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ও চিঠিতে তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, প্রবল চাপে যেভাবে বিএলওরা কাজ করছেন তাতে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত বিধানসভার ভোটারদের ডেটা আপলোড করা সম্ভব কি না। শুধু তাই নয়, চরম চাপের মুখে ভুল বা অসম্পূর্ণ ফর্ম জমা পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার বঞ্চিত হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার এই দাবি নতুন নয়। দিনকয়েক আগেও শিলিগুড়ির সরকারি মঞ্চ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াকে অবাস্তব পরিকল্পনা বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে যথেষ্ট। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কেও অস্পষ্টতা থেকে গিয়েছে। এই প্রক্রিয়া কাঠামাগত ভাবে ত্রুটিপূর্ণ। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে লেখা চিঠিতে সিইও দপ্তরকেও একহাত নেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এই পরিস্থিতিতে সাহায্য না করে কিংবা সময়সীমা না বাড়িয়ে কলকাতার সিইও দপ্তর ‘ভয়’ দেখাচ্ছে। বিএলওদের শোকজ করা হচ্ছে। এমনকী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি বুঝতে অস্বীকার করছে কমিশন। তাঁর কথায়, ‘‘এই প্রক্রিয়া যদি অবিলম্বে সংশোধন করা না-হয়, তবে তা সকলের কাছেই ক্ষতির।’’