সংবিধান ও আইনের লড়াইই তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি। এবার আদালতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামেও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার বার্তা দিলেন তৃণমূল মনোনীত রাজ্যসভার প্রার্থী এবং বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy)। শুক্রবার ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—৬০ লক্ষ মানুষের নাম যাচাই বা বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? পাশাপাশি এদিনের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ এলাকার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন (Ramakrishna Sarada Mission)-এর প্রেসিডেন্টও। তিনি দাবি করেন, এসআইআর তালিকায় তাঁর নামও নেই। প্রায় ১৪ বছর ধরে মিশনের দায়িত্বে থাকার পরও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁকে পাশে নিয়ে মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন বক্তৃতার শুরুতেই মেনকা গুরুস্বামী ভারতের সংবিধান ও ভোটাধিকারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। ভারতীয় সংবিধান (Constitution of India)-এর মূল চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই শতাব্দী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পর ভারতবাসী এই সংবিধান গ্রহণ করেছে। এই সংবিধানই ঘোষণা করে—ধর্ম, জাতি বা অঞ্চল নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ সমান। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে ভোট দেওয়ার অধিকার, যা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। একজন আইনজীবী হিসেবে সংবিধানের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর কথায়, সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে ভোটাধিকার দিয়েছে, অথচ লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “যদি ৬০ লক্ষ মানুষের নাম এভাবে বাদ পড়ে বা যাচাইয়ের নামে আটকে দেওয়া হয়, তাহলে কীভাবে নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে?”
বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। জানান, এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)-সহ বিভিন্ন আদালতে মামলা লড়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যের শেষে ধ্বনি ওঠে—“জয় বাংলা, জয় সংবিধান।”
এদিন ধর্নামঞ্চে মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট এসআইআর তালিকায় নাম না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন । তিনি জানান, তিনি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের শিষ্য, তবু তাঁর নাম বাতিল হওয়ায় তিনি বিস্মিত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দয়পাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁকে নথিপত্র দেখানোর পরামর্শ দেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এমন বহু মানুষকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে যারা আসলে জীবিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লক্ষ জীবিত মানুষকে তালিকায় মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বলাই যায় ধর্নামঞ্চ থেকে এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল, আর ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কও তৈরি হল।





