রাজধানী দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটল। বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন, আহত ৩০। ঘটনার পরে দিল্লিতে করা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, এর পেছনে নাশকতামূলক কার্যকলাপ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিস্ফোরণের পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরও কয়েকটি গাড়িতে। লালকেল্লার মেট্রো গেটেও আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেনসিক দল। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনআইএ)। রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয়েছে নাকা চেকিং, তল্লাশি করা হচ্ছে আশপাশের হোটেল এবং মেট্রো স্টেশনেও।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, লাল কেল্লার কাছে মেট্রোর এক নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে পাশাপাশি আরো গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে কিনা সেটাও স্পষ্ট নয় । খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছেছে এনআইএ এবং এনএসজি। বিস্ফোরণের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।’ হাসপাতালের আহতদের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তদন্তে যা উঠে আসবে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন বলে কথা দিয়েছেন তিনি। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে আমি গভীরভাবে শোকাহত। মৃতদের পরিবারকে আমার সমবেদনা। আর আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যে ছটা ৫২ মিনিটে। অফিস টাইমে এমনিতেই সেই সময়টা চরম ব্যস্ততা থাকে। তার মধ্যে এই বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী দল। আহতদের কাছেই একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য মৃত্যু হয় আটজনের। ঘটনাস্থলে পৌঁছয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন তারা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে বলে দাবি করে।
প্রসঙ্গত সোমবার সকালেই দিল্লির দিল্লির কাছে ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। হরিয়ানা ও কাশ্মীর পুলিশের একটি যৌথ বাহিনী ফরিদাবাদ এর একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক, ২০টি বোমার টাইমার ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর জম্মু কাশ্মীর পুলিশ বিবৃতি দিয়ে জানায়, গত কয়েকদিনে সারাদেশ থেকে প্রায় ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জয়িস জঙ্গিদের যেমন যোগ রয়েছে তেমনি পাকিস্তানের একটি সংগঠনেরও যুক্ত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তারপরেই দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনা কপালে ভাঁজ ফেলেছে তদন্তকারী অফিসারদের।





