যত কাণ্ড কলকাতা মেট্রোয়। নিত্যদিন নানা সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। দক্ষিণের একেবারে প্রান্তিক কবি সুভাষ স্টেশনের একটি অংশে ভাঙনের পর থেকেই সমস্যার সুত্রপাত। দোসর হয়ে দেখা দিয়েছে একাধিক রুটে মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়া। অফিস টাইমে ভিড়ের চাপে নাজেহাল অবস্থা। প্রচণ্ড ভিড়ে দরজা বন্ধ হছে না অনেকসময়, ফলে দীর্ঘক্ষণ ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকছে মেট্রো। বিরক্তি বাড়ছে মানুষের। আধ ঘণ্টার পথ যেতে লেগে যাচ্ছে দেড় ঘণ্টা। দেরি হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ হয়ে যাচ্ছে যাত্রীদের।
কিন্তু কেন গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা? মেট্রোর নিয়ম অনুযায়ী রাতের ‘বিশেষ’ মেট্রোয় সফর করলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা সারচার্জ নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সমস্যার কারণে ইদানিং যাত্রীদের অনেকক্ষেত্রে ষ্টেশন ছেড়ে বেরতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগেই রাতের শেষ তিন চারটি মেট্রোর রীতিমতো যাত্রীদের পকেট কেটে টাকা লুঠছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ফলে গত কয়েকদিনের হিসাবে প্রায় ১৫টি স্টেশন থেকে এই বাবদ মেট্রোর কোষাগারে ঢুকেছে কয়েক লক্ষ টাকা ।
এই বাড়তি টাকা কাটার ব্যাপারতা অনেকে হয়তো খেয়ালও করছেন না। দৈনন্দিন টিকিট কেটে যাঁরা যাতায়াত করছেন তাঁদের এই সমস্যা হচ্ছে না। গেটে কর্তব্যরত ব্যাক্তি পাশের দরজা দিয়ে বের করে দিচ্ছেন তাঁদের। স্মার্ট কার্ড হোল্ডাররাও এই সুবিধে নিয়ে কার্ড পাঞ্চ না করে বেরিয়ে যেতে পারছেন। তবে পরদিন তাঁকে কার্ডের লক খোলাতে যেতে হচ্ছে। পরদিন আবার কার্ডের লক খুলতে লাইনে দাঁড়ানোর ভয়ে অনেকেই বাড়তি টাকা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই অতিরিক্ত টাকা কাটা নিয়ে সোমবার রাতে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন যাত্রী। বিপাকে পড়ে নিজের পকেট থেকেই অতিরিক্ত ১০ টাকা করে ফেরত দিলেন স্টেশন মাস্টার। যাত্রীদের অভিযোগ, একে ভিড়ের চাপে প্রাণান্তকর অবস্থা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত মাশুল দিতে বাধ্য হওয়ায় হতাশ নিত্যযাত্রীরা।





