Header AD

মায়ের মৃত্যু, মর্গে বাবার দেহ! তারমধ্যেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় মাধ্যমিকের দুই ছাত্রী

জীবনের সবচেয়ে কঠিন অঙ্কটা যেন পরীক্ষার খাতায় নয়, বাস্তবেই কষে নিতে হল দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে। একদিকে মায়ের মৃত্যু, অন্যদিকে বাবার আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রয়াণ। তবু চোখের জল মুছে অঙ্কের খাতায় কলম চালিয়েছে দুই ছাত্রী।

ইটাহারের দানগাছি গ্রামের দুর্গাপুর ভুপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ছাত্রী নন্দিনী বর্মনের জীবনে সোমবার ভোরে নেমে আসে অন্ধকার। গণিত পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগেই রায়গঞ্জের একটি নার্সিংহোমে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাঁর মা রেখা বর্মন। সেই খবর পেয়েই ভেঙে পড়ে নন্দিনী। তবু সদ্য প্রয়াত মায়ের পায়ে প্রণাম করে, কান্না চেপে জ্যাঠার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছয় সে। পরীক্ষার হলে বসে অঙ্ক কষতে কষতেই বারবার থেমে যাচ্ছিল কলম। মায়ের মুখ ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। পরীক্ষকদের সহানুভূতিতে আবার নিজেকে সামলে নেয় সে। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরেই শ্মশানের পথে রওনা দেয় নন্দিনী। বাবা শ্যামল বর্মনের কণ্ঠ ভেঙে যায়, ‘ছেলে না থাকায় মেয়েই মায়ের মুখাগ্নি করেছে।‘ শ্মশানে জ্বলন্ত চিতার সামনে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে কেঁদে ওঠে কিশোরী।

অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের গলসির শিড়রাই গ্রামের শিড়রাই আলিজান মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নাসিমা খাতুনের রাত কেটেছে বাবার মৃত্যুশোকে। রবিবার রাতে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর বাবা শেখ মজনুরের। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। বিনিদ্র রাত কাটিয়েও সোমবার সকালে বাবার দেহ মর্গে রেখেই মাসতুতো দাদার সঙ্গে অঙ্ক পরীক্ষায় যায় নাসিমা। পরীক্ষা শেষে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেনি সে। কাঁপা গলায় বলে, ‘বাবা অনেক কষ্ট করে পড়াচ্ছিলেন, তাঁর স্বপ্ন ভেবেই পরীক্ষা দিয়েছি। বছর নষ্ট করতে চাইনি।‘

দুই কিশোরীর এই মানসিক দৃঢ়তা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও গ্রামবাসীদের মন ছুঁয়ে গেছে। শোকের পাহাড় ডিঙিয়েও তারা প্রমাণ করেছে—জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও হার মানে না অদম্য মনোবল।