হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে গ্রেপ্তার হল লরেন্স বিশ্নোইয়ের দলের তিন সদস্য। ধৃতদের নাম করণ পাঠক, তরণদীপ সিং এবং আকাশদীপ সিং। পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ড থেকে অভিনেতা সলমন খানকে হত্যার হুমকি— বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে বিশ্নোই গ্যাংয়ের। বারবার সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে এই কুখ্যাত গ্যাং। এবার সেই গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেপ্তার হল বাংলায়। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, পাঞ্জাবের তিন দুষ্কৃতীকে ধরে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।
ধৃত তিন জনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ধৃত তিন জনই পাঞ্জাবের বাসিন্দা। পাঞ্জাবের অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। সেখানকার কবাডি খেলোয়াড় রানাবালা চৌর খুনে নাম জড়িয়েছিল এদের। সেই থেকে পাঞ্জাব পুলিশের এসটিএফএই তিনমূর্তিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। জানা গিয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর কবাডি খেলোয়াড় খুনের পরে তিন অভিযুক্ত গা ঢাকা দিয়েছিল। পালিয়ে তারা গ্যাংটক হয়ে কলকাতায় চলে আসে। তবে এখানেও বেশিদিন থাকার পরিকল্পনা ছিল না। তড়িঘড়ি এখান থেকে পালানোর চেষ্টায় ছিলেন তারা। সূত্রমাফিক খবর পেয়ে তক্কে তক্কে ছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। রাতে স্টেশনচত্বর থেকেই চিহ্নিত করা হয় বিশ্নোই গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে।
উল্লেখ্য, বছরের পর বছর ধরে তোলাবাজি, চোরাকারবারি, ভয় দেখানো, হুমকি, হত্যা-সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিশ্নোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। এমনকি নিজে জেলে বন্দি থাকা অবস্থাতেও বিশ্নোই তাঁর অপরাধের ‘সাম্রাজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সুদূর কানাডাতেও তাঁর গ্যাংয়ের সদস্যেরা নানা বিশিষ্ট লোকজনকে খুনের হুমকি দিয়েছেন, গুলিও চালিয়েছেন। সম্প্রতি কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মাকে খুনের হুমকি দেওয়া, বিদেশে কমেডিয়ান অভিনেতার ক্যাফেতেও হামলা চালানোর অভিযগ উঠেছে এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। সেই জন্য খবর পাওয়া মাত্রই আঁটঘাট বেঁধে অভিযানে নামে হাওড়া পুলিশ। রবিবার রাতে এই তিন কুখ্যাত অপরাধী হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে অন্য কোথাও পালানোর ছক কষছিলেন। বিভিন্ন সূত্র মারফত এই খবর পেয়ে গোলাবাড়ি থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঞ্জাব এসটিএফ। তড়িঘড়ি ছক সাজিয়ে ফেলে হাওড়া পুলিশ। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন, ধৃতেরা প্রত্যেকেই কুখ্যাত বিশ্নোই গ্যাংয়ের সদস্য।




