শহরের প্রত্যেকটি হোটেলে গিয়ে এবার থেকে ‘সারপ্রাইজ চেকিং’করতে হবে প্রত্যেক থানার ওসিকে। এমনটাই নির্দেশ দিল লালবাজার। হোটেলের যে কোনও বোর্ডারের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করতে হবে পুলিশকে। বোর্ডারের পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে তাঁর চেহারা মিলছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন পুলিশ আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, জেলার সদরগুলির হোটেল কর্তৃপক্ষ যাতে এই একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালায়, তার জন্য কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য পুলিশও। লালবাজারের সূত্রে খবর, কলকাতায় পার্ক স্ট্রিট ও কসবায় হোটেলের ঘরের ভিতর ঘটেছে একের পর এক খুনের ঘটনা। যার জেরে রবিবার এই নিয়ে লালবাজারের কর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। এর পাশাপাশি বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাও তৈরি করছে লালবাজার শহরের হোটেলগুলির জন্য। এছাড়াও হোটেলের নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার লালবাজারের পুলিশকর্তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দিয়েছেন। সারা শহরের নিরাপত্তার জন্য হোটেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মত লালবাজারের।
শনিবার অপরাধ দমন সংক্রান্ত বৈঠকে প্রত্যেকটি থানার ওসি ও গোয়েন্দা দফতরকে লালবাজারের কর্তাদের নির্দেশ, শহরের প্রত্যেকটি হোটেলে গিয়ে চেকিংয়ের উপর জোর দিতে হবে। এবার থেকে তার জন্য চালু করতে হবে ‘সারপ্রাইজ চেকিং’। একটি হোটেলের দুই বা চারজন বোর্ডারকে অনুরোধ করতে হবে রিসেপশনে আসার জন্য। প্রয়োজনে পুলিশও তাঁদের রুমের সামনে যেতে পারে। পরীক্ষা করতে হবে বোর্ডারের আধার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্র ও বিদেশিদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রগুলি। এছাড়াও পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মেলাতে হবে বোর্ডারদের চেহারা। তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন, কোথায় তাঁদের পরের গন্তব্য, কী পেশা, সেই সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁদের কাছ থেকে জানতে পারবে পুলিশ। সেই তথ্যের সঙ্গে হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতায় দেওয়া তথ্যের মিল রয়েছে কিনা, তাও জেনে নিতে হবে পুলিশ আধিকারিকদের। দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ও একাধিক হোটেলে খুনের জেরেই পুলিশকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মত লালবাজারের।
লালবাজারের সূত্রে খবর, হোটেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের পর এদিন শহরের প্রত্যেকটি হোটেল, গেস্ট হাউসের প্রত্যেক বোর্ডারের প্রত্যেকদিনের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা ও তার সঙ্গে বিশেষ অ্যাপে আপলোড করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষত বিদেশিদের জন্য ছবিসহ তাঁদের বিস্তারিত পরিচয়ের ফর্ম ভরে পুলিশকে পাঠাবে প্রত্যেক হোটেল কর্তৃপক্ষ। হোটেলের রিসেপশন, লবি, করিডর, পার্কিংয়ের জায়গায় ক্যামেরা বসানো আবশ্যিক। সেই ক্যামেরায় সর্বক্ষণ চলবে নজরদারী । হোটেলের রিসেপশনে বড় করে সংশ্লিষ্ট থানা, লালবাজার, দমকল, অ্যাম্বুল্যান্সের নম্বর দেওয়া থাকবে। লালবাজারের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক হোটেল কর্তৃপক্ষকে নিজেদের কর্মীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই তাঁদের নিয়োগ করতে হবে। কর্মীদেরকে এই বিষয়ে দিতে হবে সঠিক প্রশিক্ষণও। কোনও বোর্ডারের সন্দেহজনক আচরণ ও গতিবিধি দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে কর্মীদের ও অবশ্যই সেই তথ্য জানাতে হবে পুলিশেও। হোটেলের ভিতর স্মোক ডিটেক্টর, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও ব্যবস্থাও তৈরি রাখতে হবে। পাশাপাশি হোটেলগুলি এই সমস্ত নির্দেশিকা না মানলে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।





