Header AD

মুস্তাফিজুর খেলতে পারবেন না আইপিএলে, নির্দেশ বিসিসিআই’র! বাংলাদেশের বোলারকে ছাড়ল কেকেআর

আইপিএলে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁকে দলে রাখা যাবে না। শনিবার সকালে কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃপক্ষকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। পরিবর্তে অন্য কোনও ক্রিকেটারকে সই করানোর সুযোগ পাবে শাহরুখ খানের দল। নির্দেশ পাওয়ার পরেই মুস্তাফিজুরকে রিলিজ করে দিল কেকেআর। তাঁদের অফিসিয়াল পেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল পেসারের ভিডিও। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী আইপিএলে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকেও দেখা যাবে না।

ভারত-বাংলাদেশ বর্তমান টানাপোড়েনের প্রভাব  এবার পড়ল খেলাধুলোর ময়দানেও! বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসাবে আগামী আইপিএলে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুরের। ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করায় পারদর্শী তিনি। সে কথা মাথায় রেখেই দলের বোলিং শক্তিশালী করতে নিলামে তাঁকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন কেকেআর। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশের পর তাঁকে ছাড়তে বাধ্য হল শাহরুখ খানের দল। পরিবর্তে অবশ্য অন্য কাউকে সই করানোর সুযোগ থাকছে কেকেআর কর্তৃপক্ষের কাছে। বিদেশি ক্রিকেটারও নিতে পারবে কেকেআর। শইকীয়া বলেছেন, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে বিসিসিআই আইপিএলের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি কেকেআরকে একটি নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেকেআর পরিবর্ত ক্রিকেটার নিতে চেয়ে আবেদন করলে বোর্ড তাদের অনুমতি দেবে।’’

বেশ কিছু দিন ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও তলানিতে। সম্প্রতি নোয়াখালিতে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি-সহ বেশ কিছু দল। দীপু দাসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারও। তার পর থেকে আইপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারের থাকা নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। বিজেপি, শিবসেনার মতো দল সরাসরি সুর চড়ায় । নিশানা করা হয় কেকেআর কর্ণধার শাহরুখকেও। কংগ্রেস নেতাদের একাংশও মুস্তাফিজুরের আইপিএল খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। মুখ খোলেন কয়েক জন ধর্মীয় গুরুও। কেকেআরকে বয়কট করার দাবিও ওঠে কিছু মহল থেকে। ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে বোর্ড এবং কেকেআর কর্তাদের উপর। শনিবার ফের বাংলাদেশে পেট্রল ঢেলে গায়ে আগুন দিয়ে খুন করা হয় খোকন চন্দ্র দাসকে। বিতর্ক এবং চাপের মুখে  এদিন সকালেই বিসিসিআই মুস্তাফিজুরের আইপিএল খেলা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে দিল।

বোর্ডের নির্দেশের পেক্ষিতে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে কেকেআর কর্তৃপক্ষ। শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘‘কলকাতা নাইট রাইডার্স- দলের আপডেট।’’ মূল বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে, আইপিএলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই আসন্ন মরসুমের আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশ এবং পরামর্শ মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, বিসিসিআই এক জন পরিবর্ত খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সময় মতো জানানো হবে।’’

এখন প্রশ্ন উঠছে, মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দিতে হলে কেকেআরের আর্থিক ক্ষতি হবে কি না? নিয়ম অনুযায়ী, কেকেআরে কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না। আইপিএল শুরুর আগে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মুস্তাফিজুরকে কোনও টাকা দিতে হবে না কেকেআর কর্তৃপক্ষকে। দলগুলির নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ব্যতিক্রমী অক্রিকেটীয় কারণে কোনও ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিতে হলে, সংশ্লিষ্ট দলের চুক্তি রক্ষার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না। মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেকেআরের নয়। তারা শুধু বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। তাই কোনও আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে হবে না শাহরুখের দলকে। কেকেআর পুরো ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ব্যবহার করতে পারবে পরিবর্ত ক্রিকেটার নেওয়ার জন্য।

এদিকে, আইপিএল-এ  বিসিসিআই-এর মুস্তাফিজুরকে খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিস্মিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা নাজমুল আবেদিন। তিনি বিসিসিআই-এর উপরেই দায় চাপিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’-কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে  নাজমুল বলেছেন, ‘‘খবরটা দেখেছি। কিন্তু এখনও তাদের (ভারতীয় বোর্ড) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। জানানোর পর আমরা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারব।’’ তবে, বিসিবি-র একটি সূত্র ‘প্রথম আলো’-কে জানিয়েছে, মুস্তাফিজুরকে নিয়ে বিসিবি-র খুব বেশি কিছু করার থাকবে না। খুব বেশি হলে তারা ভারতীয় বোর্ডের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে। কিন্তু আইপিএলে কারা খেলবেন, সেটি ঠিক করবে বিসিসিআই ও ভারত সরকার।