প্রস্তুতি ছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানুষের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে তৃণমূল। শুনানি প্রক্রিয়ায়ও সেই হয়রানি অব্যাহত। এই প্রক্রিয়ায় ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে সরব রাজ্যের শাসক দল। এবার SIR- এ নাম যাওয়ার অভিযোগ করলেন ভারত সেবাসঙ্ঘের সন্ন্যাসীরাও (Bharat Sevashram Sangha)। এর প্রতিবাদে ফের সরব হয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সোমবার গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সাগর মেলার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন তিনি। এরপর সেখানকার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সামনেই সন্ন্যাসীরা এস আই আর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ করে বলেন, “৪০ বছর এখানে বাস করছি। তারপরও অন্যায় ভাবে আমাদের নাম বাদ যাচ্ছে। আমরা এখানে কাজ করব নাকি ওড়িশায় যাব সার্টিফিকেট আনতে? এটা কোনওদিন হয়নি।” এরপরই এদিন কপিলমুনির আশ্রমে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে সরব হন তিনি। বলেন “শুনলেন তো, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসীদেরও নাম বাদ দিচ্ছে। নাম কাটতে কাটতে কোথায় চলে গিয়েছে! আমি শুনেছি অনেক সাধুসন্ত , সন্ন্যাসী- মহারাজের নাম বাদ গিয়েছে। এটা অন্যায় হচ্ছে। এই অন্যায় বরদাস্ত করা যাবে না, করা হবেও না।”
প্রসঙ্গত, সোমবার গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করে সেখান থেকেই SIR প্রক্রিয়ায় বিরোধিতা করে নাম না করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এস আই আর প্রক্রিয়ায় হয়রানির প্রতিবাদ করে তিনি গর্জে ওঠেন, “৮৫ বছর বয়স্ক নাকে নল, তাকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছো, প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ডেকে নিয়ে যাচ্ছ শুনানির জন্য! বাংলাকে এখন প্রমান দিতে হবে আমি দেশের নাগরিক কিনা! তুমি কে ভাই? সবে এসেছ কিছু দিনের জন্য। বাংলা কোনওদিন মাথা নত করেনি, করবেও না। এটা বাংলার ইতিহাস, মনে রেখে দিও দিল্লির জমিদারেরা।” এরপরই কমিশনকে একহাত নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে তাদের অধিকার ছিল ৭ নম্বর বা ৮ নম্বর ফর্ম ফিলাপ করার। হোয়াটসঅ্যাপ-এ চলছে ইলেকশন কমিশন।মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই মানুষের হয়রানি রুখতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। “আমি উকিল। আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামীকাল কোর্ট খুলবে। আইনের পথে যাব। প্রয়োজন পড়লে আমি সুপ্রিম কোর্টে যাব, একজন আইনজীবী হিসাবে নয়, একজন সাধারন মানুষ হিসাবে যাব। আমি সাধারণ মানুষের কথা বলতে যাব। আমিও সুপ্রিম কোর্টে মানুষের হয়ে প্লিড করব।”





