Header AD
Trending

কমিশন-বিজেপি আঁতাতে জাতীয় ভোটার দিবস ‘প্রহসনে’ পরিণত হয়েছে! ECI-কে তীব্র কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ভোটার দিবসে ফের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, এই দিন উদযাপনের অধিকার নেই কমিশনের। রবিবার তাঁদের এই দিন পালনকে ‘প্রহসন’ মনে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনেই তারা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্য দিকে, রবিবার এই জাতীয় ভোটার দিবস পালনের কর্মসূচিতেই একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন।

রবিবার জাতীয় ভোটার দিবস। এই দিনে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কমিশনের প্রতিষ্ঠা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, ‘ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার—আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত’।

এরপরই নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে এবং বিধি-নিয়ম অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে নতুন-নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে। মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে! তাদের প্রভু বিজেপি-র হয়ে তারা বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়। এদেরই আবার সাহস হচ্ছে ভোটার দিবস উদযাপন করার!’

নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, আপনাদের অত্যাচারের ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০ , ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে ও স্বার্থে’‌।

তাঁর আরও অভিযোগ ‘এটাকে আপনারা নাগরিকদের জন্য NRC প্রক্রিয়া বানিয়ে তুলেছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে’। প্রসঙ্গত ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ হাজার আদিবাসীকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। প্রতিবাদে অনশনে বসেছেন তৃণমূলের আদিবাসী সেল সংগঠনের চেয়ারম্যান দেবু টুডু।

এদিনের দীর্ঘ পোস্ট শেষে কমিশনকে তুলোধোনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু আপনাদের পক্ষপাত- দুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কান্ডকারখানা, মাইক্রো অবজারভার প্রভৃতিদের দলে দলে পাঠিয়ে সেই নিগ্রহ বৃদ্ধি এবং মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিণতিতে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই’।