Header AD

‘প্রাকৃতিক বিপর্যয় নাকি অন্দরের কুয়াশা!’ মোদির কপ্টার বিভ্রাটে কটাক্ষ তৃণমূলের

শনিবার আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে নদিয়ার তাহেরপুরের সভাস্থলে পৌঁছোতেই পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পরিবর্তে কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই ভার্চুয়ালি ভাষণ দিতে হল প্রধানমন্ত্রীকে। মোদির সেই অডিওবার্তাই শোনানো হল সভায় আসা বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের। এসআইআর আবহে সেই সভা থেকে মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি কী বার্তা দেন, সে দিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সুনির্দিষ্ট কোনও বার্তা ছিল না। এবার তা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের পক্ষ থেকে ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী চন্দিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) এবং সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর (Mamatabala Thakur)। এপ্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি না থাকলে এরকমই হয়।”

শনিবার অডিও বার্তায় রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে লাগাতার আক্রমণ করেছেন মোদি। বক্তৃতায় ছুঁয়ে গিয়েছেন অনুপ্রবেশ, এসআইআর এবং ‘জঙ্গলরাজ’-এর মতো বিষয়। কিন্তু তিনি মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে কার্যত মৌন রইলেন। এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্নকে কটাক্ষ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলা ভাষাটাই ভালো করে রপ্ত করতে পারেননি। বাংলার মানুষকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে তিনি বাংলায় বিজেপিকে আনতে বলছেন। অথচ বাংলার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে আপনারাই বাংলার মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। বাংলার মানুষ এটা মেনে নেবে না। মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে আজ একটা কথাও বলেননি। স্বপ্ন দেখা ভালো, দুঃস্বপ্ন ভালো নয়।” তাঁর কথার সূত্র ধরেই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রশ্ন তোলেন “তাহেরপুরের বদলে কেন তিনি কৃষ্ণনগরে নামলেন না?”এরপরই ব্রাত্যর কটাক্ষ “মতুয়া সম্প্রদায় তাঁর কাছ থেকে দুটো ভরসার কথা শোনার অপেক্ষায় ছিল। তিনি আশ্বাস দিতে পারতেন। আসলে মতুয়াদের আশ্বাস দেওয়ার অবস্থাতেই তিনি নেই।”

এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের সাংসদ তথা মতুয়া মহাসংঘের নেত্রী মমতাবালা ঠাকুর বলেন “প্রধানমন্ত্রী কোনও আশ্বাস ভরসা কিছুই দেননি। মতুয়ারা আজ প্রধানমন্ত্রীকে ধিক্কার জানিয়েছে। তাঁরা এইরকম প্রধানমন্ত্রি চায় না। SIR-এ অধিকাংশ মতুয়ার খসরা তালিকায় নাম আসেনি। নাগরিকত্ব না পেলে এই বিষয়ে তাঁদের ক্ষোভ আরও বাড়বে।”