Header AD

বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশা SSKM-এর ‘অনন্য’, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সাধ্যের মধ্যে আধুনিক চিকিৎসা

রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশা। মঙ্গলবার এসএসকেএম-এর উডবার্নের দ্বিতীয় ভবন ‘অনন্য’র  আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন এই ওয়ার্ডের আধুনিক পরিষেবা যে কোনও কর্পোরেট হাসপাতালের সঙ্গে পাল্লা দেবে।  খরচ থাকবে সাধারণের নাগালের মধ্যেই। উল্লেখ্য নবান্নের সঙ্গে মিলিয়ে এই নবনির্মিত ভবনের নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে মানের পরিষেবা এখানে রোগীরা পাবেন তাতে এই টাকা ভাড়া নেওয়ার পরেও সব খরচ উঠবে না। আপনারা কাজ শুরু করুন, পরে আমরা আবার বিষয়টি খতিয়ে দেখব৷”

প্রসঙ্গত, এই ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা। দশতলা ভবনে থাকছে ১৩২টি সজ্জা।থাকছে ১০২টি কেবিন ও ৮টি স্যুইট। উডবার্নে সবার জন্য একই ভাড়া। থাকবে সিসিইউ-তে অপারেশনের ব্যবস্থাও। পাওয়া যাবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধাও। উডবার্নে সিঙ্গল কেবিনের ভাড়া ৫০০০ টাকা। স্যুইট – ৮০০০ টাকা, এইচডিইউ -১২০০০ টাকা, আইটিইউ- ১৫০০০ টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সব কেবিনের ভাড়াই কমেছে ২ হাজার টাকা করে। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে এখানে রোবোটিক সার্জারি করা হবে। রাজ্যে সরকারি ক্ষেত্রে যা প্রথম। পূর্ব ভারতের প্রথম বোন ব্যাংক হচ্ছে এই হাসপাতালেই। কর্ড ব্লাড ব্যাংক করা হচ্ছে যা অনেক রোগ সারিয়ে দেবে। কিডনি ও লিভার ব্যাঙ্ক তৈরির ভাবনাও রয়েছে।.১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন ধরণের আধুনিক যন্ত্র কেনার কথাও এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন এই মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৫.৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে কলকাতা পুলিশ হাসপাতালের নতুন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক। ২৪.৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে লি রোডে নির্মিত সাততলা ছাত্রাবাস। ৭.৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রেডিওলজি বিভাগে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ১২৮ স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিন। ৭.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম। এছাড়া নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের অপারেশন থিয়েটার সংস্কার, স্বাস্থ্য ভবনের নতুন ছতলা অ্যানেক্স–১ ভবন যার নির্মাণ ব্যয় ১৬ কোটি টাকা এবং মৌলালিতে ৩২.৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রাগ কন্ট্রোল অধিদফতরের আধুনিক ভবনও এদিন চালু হয়।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা যাতে আধুনিক, দ্রুত ও সুলভ হয়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবায় বেসরকারি হাসপাতালকে টেক্কা দেবে অনন্য। ব্রিকসের মনোনয়নে দেশের মধ্যে দুটি মেডিক্যাল ইনস্টিটিউশন জায়গা পেয়েছে। যার মধ্যে একটি এসএসকেএম (আইপিজিএমআর)। যে-কারণে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এসএসকেএম-কে মুখ্যমন্ত্রী ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন তাদের নিজেদের বিবিধ কাজের জন্য।